Published on
:
2 min read
এই সময়, পুরুলিয়া: রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে উন্নয়নের নামে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, জীবন-জীবিকা ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের প্রতিবাদে সোমবার পথে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রতিবাদের রূপ ধরা পড়ল অন্য আদলে। মঙ্গলবার কেটে দেওয়া হলো বেড়ো চণ্ডী পাহাড়ের রাস্তা।
যেখানে পাহাড় কাটার কাজ চলছে, সেই প্রকল্পস্থলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা কেটে দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পস্থলে কোনও গাড়ি ঢুকতে বা বেরোতে পারেনি। আন্দোলনকারীদের পক্ষে জানানো হয়, তাঁরা রাস্তা কাটেননি। প্রকল্পস্থলে যাতায়াতের জন্য এত দিন যা রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, সেই জমিটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। তারাই এই রাস্তা কেটেছে। দীনবন্ধু মাজি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, ‘ওই জমি আমাদের শরিকি জমি। বংশ পরম্পরায় তা আমাদের দখলে রয়েছে। যে প্লটকে এত দিন সংস্থাটি পাহাড় কাটার জন্য রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছে, সেই জমি এবং লাগোয়া আরও কিছু প্লটের মালিকানা আমাদের পরিবারেরই।’
তিনি যোগ করেন, ‘অতীতে যখন ডব্লিউএমডিটিসি প্রথম কাজ শুরু করে, সেই সময়ে আমাদের ওই জমি ব্যবহার করার জন্য টাকা দিত। এখন যে সংস্থা কাজ করছে, তাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল। অথচ গত ডিসেম্বর থেকে নানা বাহানা দেখিয়ে তারা আমাদের ঘোরাচ্ছে। প্রথমে বলা হয়েছিল, টাকার বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। এখন বলা হচ্ছে, ভূমি দপ্তর এসে মাপজোক করার পরে তা নিয়ে কথা হবে। সংস্থার মনোভাব আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। নিজেদের শরিকি জমি আমরা কেটেছি। এতে তো কারও কিছু বলার নেই।’ দীনবন্ধুর সংযোজন, ‘জমি কাটার পরে পুলিশমহল থেকেও চাপ আসতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, জমির কাগজপত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দেখা করতে হবে। জমির নথি যদি ভূমি সংস্কার দপ্তর দেখতে চায়, নিশ্চয়ই দেখানো হবে।’ এই বিষয়ে যে সংস্থা পাহাড়া কাটছে, তারা কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
রঘুনাথপুর দূষণ বিরোধী ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা মঞ্চের মুখপাত্র স্বদেশপ্রিয় মাহাতো বলছেন, ‘এই পাহাড় থেকে গ্রানাইট উত্তোলনের জন্য চুক্তি হয়েছিল বলে জানি। কিন্তু এখন ক্রাশার চলছে। কেন তা হবে, তা নিয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখেছি।’ পাহাড় বাঁচাও কমিটির বক্তব্য, আগে বলা হয়েছিল এখানে গ্রানাইট হাব হবে। এলাকারমানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছু মানুষ নৈশপ্রহরার কাজ পেয়েছেন। তার বেশি কিছু হয়নি!
