Published : 14 Oct 2026, 05:51 PM
Updated : 14 Oct 2026, 05:56 PM
কুড়িগ্রাম সদরে ছেলের ছুরিকাঘাতে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন নিহতের স্বামী। ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে নিহতের ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন।
নিহত নারীর নাম পারুল বেগম। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সরদার আলীর স্ত্রী। আহত সরদার আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আটক মুত্তাকিন আলম শোভন (৩৪) হতাহতের সন্তান। স্বজনদের দাবি, শোভন মাদকে আসক্ত ও মানসিক রোগী।
পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত ও মানসিক রোগী। চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ মাদকাশক্তি পরামর্শ ও পুনর্বাসন রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়। আড়াই মাস আগে তাকে বাড়িতে আনা হয়। কিছুদিন ভালো থাকার পর আবারও অস্বাভাবিক ও হিংস্র আচরণ শুরু করেন।
এজন্য আবার তাকে সিরাজগঞ্জ রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করা হয়। ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে রিহ্যাব সেন্টারে লোকজন শোভনের বাসায় আসেন। বাড়িতে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শোভন চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন।
পারুল বেগম ছেলেকে শান্ত করতে গেলে হঠাৎ ছুরি নিয়ে মায়ের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেন শোভন। এ সময় বাবা সরদার আলী স্ত্রীকে বাঁচাতে ছেলেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকেও ছুঁরিকাঘাত করেন শোভন। ঘটনার তিনি পালিয়ে যান।
পরে প্রতিবেশীরা দুইজনকে ইজিবাইকে করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারুলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর সরদার আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে ওসি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের হরিকেশ বাউদিয়াছড়া থেকে শোভনকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেয়।
ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালিব বলেন, “শোভনের হিংস্র আচরণের কারণে তার বড় ভাই আলাদাভাবে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এলাকার লোকজনও আতঙ্কিত ছিল। মায়ের সঙ্গে ছেলে এমন আচরণ করবে ভাবাই যায় না।”
ওসি কামাল হোসেন বলেন, লাশ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
