আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্তে নেমে অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। ঘটনাটি পুরুলিয়া জেলায় ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এতদিন মাদক কারবারে যুক্ত থাকলে গ্রেপ্তার বা জেল হেফাজতে নেওয়া হলেও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হত না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রীর নেশা মুক্ত দেশ গড়ার কাজে সামিল হয়েছে এ রাজ্যও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত পাঁচ মাস ধরে জানিয়েছেন, মাদক কারবারিদের এ বার থেকে শুধু গ্রেপ্তার করা নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে যাতে ভবিষ্যতে আর নতুন করে কারবার শুরু করতে না পারে অপরাধীরা।
আর সেই নির্দেশ মেনেই পঞ্চমীর দিনে নিষিদ্ধ মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত বাঘমুণ্ডির কুচি গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ কুমার সাউয়ের প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ।
পুরুলিয়া পুলিশের আরও দাবি, পুরুলিয়ায় এই প্রথম কোনও মাদক সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তের সম্পত্তি ফ্রিজ করার পদক্ষেপ করা হল। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তের বাড়ির সামনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও ফলক টাঙানো হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তের বাড়ি, জমি, মোটরবাইক, ট্র্যাক্টর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। মোট পাঁচটি সম্পত্তি চিহ্নিত করে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে বলে জানান পুরুলিয়ার জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ। সম্পত্তি অবরুদ্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি কেনাবেচা, হস্তান্তর বা বন্ধক রাখা যাবে না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুন মাসে। পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, বাঘমুণ্ডি-ঝালদা রাস্তার কালিমাটির জঙ্গলে মাদক কারবারিরা জড়ো হয়েছে। খবর পেয়ে এসডিপিও ও থানার আধিকারিকদের নেতৃত্বে পুলিশের দল এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে একটি মোটরবাইক, একটি ট্র্যাক্টর এবং প্রায় ২৬০ কেজি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের দাবি। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও তদন্তের পর রাজেশ কুমার সাউকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার কুচি গ্রামে দাঁড়িয়ে জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ জানান, মাদক সংক্রান্ত মামলায় শুধু গ্রেফতার বা চার্জশিট দাখিলেই তদন্ত শেষ হচ্ছে না। অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, রাজেশের বিরুদ্ধে আরও দু’টি মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একটি মানবাজার এবং অন্যটি ঝালদা মহকুমা এলাকার। ওই মামলাগুলির তদন্তেও সম্পত্তির খোঁজ চলছে। পুলিশের দাবি, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে আরও সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এবং সেগুলির বিরুদ্ধেও আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন গ্রামে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী। সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) বিব্বাসাগর অজিঙ্গা অনন্ত, ঝালদার এসডিপিও গৌরব ঘোষ, বাঘমুণ্ডি থানার আইসি কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস, সুইসা থানার ওসি শুভজিৎ নন্দী-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকেরা।
অন্যদিকে, রাজেশের বাবা ভোলানাথ সাউ তাঁর ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ করেন, চক্রান্ত করে ছেলেরে ফাঁসানো হয়েছে। যদিও পুলিশের বক্তব্য, তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে যুক্ত থাকার তথ্য মিলেছে। এই অভিযোগ ও পাল্টা দাবির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
মাদক কারবারের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্তকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, অপরাধলব্ধ সম্পত্তি চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে মাদক কারবারের আর্থিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
