শরতের নীল আকাশের নিচে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সবুজ সমারোহ। যত দূর চোখ যায়, মাঠজুড়ে কেবল সবুজের বিস্তার। কোথাও কোথাও ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করেছে। সবুজে মোড়ানো এসব মাঠ ঘিরে কৃষকের মনে দানা বাঁধছে সোনালি ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন। এ ফসলের ওপর নির্ভর করছে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়াসহ নানা খরচ। তাই ভালো ফলনের আশায় দিনরাত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোপা আমনের মাঠে মাঠে সবুজের অপরূপ দৃশ্য। ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করায় কৃষকেরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তবে কোথাও কোথাও ইঁদুরের উপদ্রব ও পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধানখেত। এ পরিস্থিতিতে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। তবে চাষাবাদের মোট জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৮০০হেক্টর ও৪৪হাজার ১০০ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
পাকুন্দিয়া পৌরসভার বরাটিয়া গ্রামের কৃষক মো. মোবারক হোসেন বলেন, তার ধানখেতে পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত প্রতিকার না পাওয়ায় ভালো ফলন নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, কৃষক মো. সুলতান আফজাল আয়ুবী, পাটুয়াভাঙা এলাকার বাহাদিয়া গ্রামের রিপন মিয়া ও হোসেন্দী আঁতকা পাড়া গ্রামের কূষক শামীম জানান, কিছু জমিতে ইঁদুরের আক্রমণে ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ বেশি না হওয়ায় এবং ধানের বর্তমান অবস্থা ভালো থাকায় তারা আশাবাদী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে এবার আমনের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
কৃষকদের মতে, চাষাবাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সময়মতো ও সহজলভ্য হলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জমিতে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে ক্ষতির আশঙ্কা কমবে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর-ই-আলম বলেন, আমনের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমির আইল ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে পাকুন্দিয়ার মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। কৃষকের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও যথাযথ পরিচর্যায় মাঠের এই সবুজ একসময় রূপ নেবে সোনালি ধানে। সেই ধান ঘরে তুলেই পরিবারের সচ্ছলতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনতে চান তারা।
