চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, ক্লাস কবে শুরু হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ। তারা ক্লাসে ফিরতে চায়। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধের পর আমার মনে হয়েছে, বাইরে থাকা ঠিক হবে না। তাই ক্যাম্পাসে চলে এসেছি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে টানা ২১ দিনের অচলাবস্থার পর ক্যাম্পাসে গিয়ে নিজের কার্যালয়ে বসেন নতুন উপাচার্য।
পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবি-দাওয়া শুনে যুক্তিসংগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক, বিভাগীয় প্রধান, ডিন ও দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত ক্লাস শুরুর বিষয়ে কর্মপন্থা ঠিক করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপাচার্য জানান, গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করে ক্লাস বন্ধ থাকায় হতাশার কথা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরলে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফেরার আগ্রহের কথা জানান। ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শ্রেণি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে লিখিতভাবে তাদের মতামত জানানোর কথাও বলেছেন।
শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমি তো ক্লাসে পড়াতেই চাই। অনেক শিক্ষকও ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী। এমন পরিস্থিতিতে আমার বাইরে থাকা ঠিক হবে না বলে মনে করেছি। তাই আজ সকালে ক্যাম্পাসে চলে এসেছি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত ক্লাস কীভাবে শুরু করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থার শুরু। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আগের উপাচার্যকে সরানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে যুক্ত হন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
খুলনা গেজেট/এএজে
