কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ইয়েমেনে নতুন করে বাস্তুচ্যুত ২ লাখের বেশি মানুষ, খাদ্যসংকটের শঙ্কা
১৫/১০/২০২৬

ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত তীব্র হওয়ায় ২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক করেছে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি)।
বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনআরসির অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার অ্যালিসন বটমলি বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আগেও ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, ইয়েমেনের তাইজ অঞ্চলে সংঘাতের সম্মুখসারিতে পরিবর্তনের কারণে বেসামরিক মানুষ বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়ছেন। একই সঙ্গে জরুরি পণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে খাদ্যের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বটমলির আশঙ্কা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ময়দার মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, জ্বালানির সংকটের কারণে পানি সরবরাহব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে।
এনআরসির সহায়তায় পরিচালিত বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর কয়েকটির আকার কিছু এলাকায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানান তিনি। সংঘাত থেকে বাঁচতে এসব কেন্দ্রে আসা পরিবারগুলোর অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় মৌলিক সামগ্রী নেই।
বটমলি বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছ থেকে বারবার একই অভিজ্ঞতার কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “যাঁরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন, তাঁদের সবার গল্প প্রায় একই, তাঁরা কিছুই সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেননি।”
সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইয়েমেনে খাদ্য, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মানবিক সহায়তা সংস্থাটি। এতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে পড়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
মূল প্রতিবেদনে যান ↗