অনেকেই বলেন, বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার তিনি। কেরিয়ারে সব ট্রফিই প্রায় জিতেছেন। বিশ্বকাপ, জোড়া কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, ক্লাবের হয়ে লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কোপা দেল রে, ক্লাব বিশ্বকাপ, মেজর লিগ সকার— তালিকাটা লম্বা। বিশ্বকাপে সোনার বল থেকে একাধিক বার ফিফার বর্ষসেরা, ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকাও কম নয়। কিন্তু সেই লিয়োনেল মেসির জীবনে একটি আক্ষেপ থেকে গিয়েছে।
চলতি বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে হেরে আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রেখেছেন মেসি। তাঁর বিদায়ী ম্যাচও আয়োজন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর একটি রেডিয়ো সাক্ষাৎকারে নিজের আক্ষেপের কথা বলেছেন মেসি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেললেও মেসি ইংরেজি বলতে পারেন না। শুধুমাত্র স্প্যানিশ বলতে পারেন। ইংরেজি বলতে না পারার আক্ষেপ সারা জীবন থেকে যাবে তাঁর। মেসি বলেন, “ইংরেজি শিখতে না পারার আক্ষেপ আমার সারা জীবন থেকে যাবে। আমার সময় ছিল ইংরেজি শেখার। কিন্তু শিখিনি। সেই আফসোস এখনও হয়।”
ছোটবেলায় আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় চলে গিয়েছিলেন মেসি। সেখানে লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে বড় হয়েছেন। ফুটবল শেখার পাশাপাশি সেখানে পড়াশোনাও শেষ করেছেন। কিন্তু ইংরেজি শেখেননি। ফলে জীবনে অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার পরেও চুপ থাকতে হয়েছে তাঁকে।
এই প্রসঙ্গে মেসি বলেন, “এমন অনেক বার হয়েছে যখন উল্লেখযোগ্য কারও সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে গল্প করতে ইচ্ছা করেছে। কিন্তু পারিনি। সব সময় মনে হয়েছে, আমি একটা গাধা। সময় নষ্ট করেছি। ছোটবেলায় মনে হয়নি। কিন্তু এখন মাঝে মাঝেই সেটা মনে হয়।”
সেই কারণেই সন্তানদের ইংরেজি শেখার পরামর্শ দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, “সন্তানদের বলেছি, ভাল ভাবে পড়াশোনা করো। ইংরেজি শেখো। জীবনে প্রতিটা মুহূর্তের জন্য নিজেকে তৈরি রাখো। ওরা সেটা করছে। তাতেই আমি খুশি।”
ফুটবল তাঁকে জীবনের অনেক শিক্ষা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মেসি। সেই শিক্ষা সন্তানদের দিয়ে যেতে চান তিনি। মেসি বলেন, “ফুটবল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কেরিয়ারে অনেক সাফল্য পেয়েছি। পাশাপাশি ফুটবল আমাকে অনেক শিক্ষা দিয়েছে। জীবনের মূল্যবোধ শিখিয়েছে। সেই শিক্ষা সন্তানদের দিচ্ছি। আশা করি, ওরা আমার মতো পরে আক্ষেপ করবে না।”
