সাইফুল ইসলাম পটিয়া ( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
জনসাধারণের ভোগান্তি ও সরকারি দপ্তরে সেবা পেতে হয়রানির অভিযোগ সরাসরি জানতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও হাটবাজারে বসানো হচ্ছে ৬০টি অভিযোগ বাক্স। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের সঙ্গে দিতে হবে তথ্য-প্রমাণ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো তুলে দেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। পরে প্রথম বাক্সটি স্থাপন করা হয় উপজেলা নির্বাচন অফিসের দেয়ালে।
বাক্সগুলোর গায়ে লেখা রয়েছে ‘জনস্বার্থে’। পাশাপাশি রয়েছে এমপির নাম, আসন নম্বর এবং ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার হলে এসব বাক্সে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারবেন।
সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে গিয়ে বিভিন্ন সময় ভোগান্তির মুখে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ সহজে ও নির্ভয়ে জানার সুযোগ তৈরি করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
অভিযোগ জানাতে লাগবে তথ্য-প্রমাণ, হয়রানি বন্ধে জবাবদিহির আশ্বাস এনামুল হক এনামের
এমপি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
তবে এই উদ্যোগে ইতিবাচক সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার শর্ত মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ যাচাইয়ে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সরকারি দপ্তরে ফাইল আটকে রাখা, সেবা পেতে অর্থ দাবি কিংবা মৌখিক হয়রানির মতো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রমাণ সংগ্রহ করা অনেকের জন্য কঠিন। এ ছাড়া কোন পরিস্থিতিতে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
উদ্যোগটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে অভিযোগ যাচাই, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতার ওপর।
অভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকু।
অনুষ্ঠানে গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে ৬০টি অভিযোগ বাক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম বাক্সটি ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাচন অফিসে বসানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগের কত দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়।
এ জাতীয় আরো খবর..
