সংবাদ · স্বাস্থ্য
পশু চিকিৎসকের হাতে প্রসূতির চিকিৎসা, ধরা পড়ে সাজা
২০/১০/২০২৬

পশু চিকিৎসার কাজ করেন আসলাম। কিন্তু তিনি হাত বাড়ালেন মানুষের চিকিৎসায়, সেটাও আবার জটিল এক প্রসূতি সেবায়! স্বাভাবিক প্রসবের আশ্বাস দিয়ে গর্ভবতীকে ইনজেকশন দিলেন, কাটাছেঁড়া করে মৃত সন্তান প্রসবের পর রক্তক্ষরণ সামলাতে ডেকে আনলেন আরেক পল্লী চিকিৎসক রোথীকে। এরপর অসাবধানতাবশত ক্ষতের ভেতরের অংশেই গজ রেখে সেলাই করে দিলেন তারা।অবস্থার অবনতি হলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের এই প্রসূতিকে ফরিদপুরে নেওয়ার পর ধরা পড়ে জঘন্য এই চিকিৎসায় অবহেলার ঘটনা। এ নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে দৌলতদিয়ায় ঝটিকা অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। সেখানে ভুয়া চিকিৎসা চালানোর প্রমাণ পাওয়ায় আসলামকে ১৫ দিনের জেল এবং পল্লী চিকিৎসক রোথীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রতিনিধি আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এতে সহায়তা করেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদত মেম্বারপাড়ার চাঁন মিয়ার মেয়ে প্রসূতি চাঁদনীর চিকিৎসা করতে যান পশু চিকিৎসক আসলাম। স্বাভাবিক প্রসবের কথা বলে তিনি ইনজেকশন দেন এবং এক নারীকে দিয়ে কাটাছেঁড়া করিয়ে মৃত সন্তান প্রসব করান। এতে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হলে পল্লী চিকিৎসক রোথীকে ডেকে আনা হয়। তিনি প্রসূতির ক্ষতের ভেতরেই তুলার গজ রেখে সেলাই করে দেন।বাড়িতে প্রসূতির তীব্র যন্ত্রণা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে দ্রুত ফরিদপুরে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে প্রসূতির জরায়ুর ক্ষতস্থানে গজ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধন ছাড়া এমন বিপজ্জনক চিকিৎসাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে আসলামকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৮(১) ধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং রোথীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗