দাগনভূঞার ৪নং রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
বিএনপির একাধিক প্রার্থী আলোচনায়, জামায়াতের একক প্রার্থী
শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা (ফেনী)
- আপডেট সময় : ০৫:০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
- ভোটের ফল নির্ধারনে হতে পারে দলীয় প্রার্থী বাছাই ও স্থানীয় গ্রহনযোগ্যতা
- দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৪ নং রামনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য বিএনপির একাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন। এসব প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ কষছেন উপজেলা বিএনপির হাই কমান্ড। এই দিকে পুরপুরে মেজাজে আছে একক প্রার্থী দেওয়া জামায়াত ইসলামি ও ইসলামি আন্দোলন। অন্যান্য দলের নীতি নির্ধারনী ফোরামও চেষ্টা করছেন একক প্রার্থী দেওয়ার। ইউপি নির্বাচনকে ঘীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই বেশ জোরদার হয়ে উঠেছে।
দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে ২৭ মে শেষ হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
দেশব্যাপী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইউনিয়নের মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল গেজেট তথ্য অনুযায়ী ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৪ নং রামনগর ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১৭৬৪৭ জন (পুরুষ: ৮৯৫৭ জন ও মহিলা: ৮৬৯০ জন)।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবুল হাসেম বাহাদুর, তার দীর্ঘ রাজনীতিতে ২৪ টি মামলা রয়েছে, করেছেন কয়েকবার কারা বরণ। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণে তাঁর অবস্থান নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন দাগনভূঞা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা পল্টন থানা বিএনপির সাবেক সদস্য আবদুর রহিম, তার মামলার সংখ্যা ১২ টি, কারাবরণ করেছেন কয়েকবার। তার প্রার্থিতা নিয়েও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জোরালোভাবে আলোচনা রয়েছে। ক্লিন ইমেজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ভোটের মাঠে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবেও অনেকেই মনে করছেন। এদিকে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন টিংকুও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিগত আওয়ামী সরকার আমলে তার মামলার সংখ্যা ৯ টা কারাবরণ ১০ বার। এলাকায় তরুণ নেতা হিসেবে তৃণমূলে তাকে নিয়ে বেশ জোরালো আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে কাতারপ্রবাসী খোরশেদ আলম ভূঁইয়া দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নিয়ে বেশ জোরালো আলোচনা চলছে। ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় তার ভালো গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন বি কম, এলাকায় মুক্তি যোদ্ধা হিসেবে সুশীল সমাজের কাছে তার উল্লেখ যোগ্য গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে বলে জানা যায়। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সেক্রেটারী, রামনগর ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক সেক্রেটারী, সৌদি আরবের জেদ্দা বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্র দলের সাবেক সহ সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দীন ভূইয়া (এম.এস.এস) আলোচনায় রয়েছেন। তিনি রামনগর ইউনিয়ন সম্ভ্রান্ত মিনাকাজি ভূঞা বাড়ির সন্তান। তার জেঠাতো ভাই মরহুম দেলোয়ার হোসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। উচ্চ শিক্ষিত, ক্লিন ইমেজ ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হওয়ার এলাকায় তাকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে ভোটের সমীকরণে। বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী মো. ইসমাইল আতাতুর্ক সরকারি মডেল হাইস্কুলের অফিস প্রধান ছিলেন । স্থানীয়দের অনেকে তাকে ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচয় দেন। তার প্রার্থিতা নিয়েও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জোরালোভাবে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক ইমাম হোসেন এমাম, তার রাজনৈতিক মামলা ও কারাবরণ করেন। তার প্রার্থিতা নিয়েও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জোরালোভাবে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া রামনগর ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ন আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা যুব দলের যুগ্ন আহবায়ক আবদুল মালেক মানিক সহ আরো কয়েক জনের নাম স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৪ নং রামনগর ইউনিয়নে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে জামায়াত ইসলামির রামনগর ইউনিয়ন আমির মাস্টার আহসান উল্লাকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতি মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকেও ৪ নং রামনগর ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রামনগর ইউনিয়ন ইসলামি আন্দোলন এর সভাপতি মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি একাদারে দাগনভূঞা উপজেলা ইসলামি আন্দোলন শাখার সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মোঃ জহির উদ্দিন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
দাগনভূঞা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও প্রস্তুতি চলছে। খেলাফত মজলিশের ফেনী জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. আজিজ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁদের দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ইউনিয়নে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফেনী জেলা আহ্বায়ক শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক জানান, দাগনভূঞা উপজেলার সব ইউনিয়নে এনসিপির পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো কোনো ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকেও প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে দলীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এসব নামকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪ নং রামনগর ইউনিয়নের আগামী নির্বাচনে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন, তৃণমূলের সমর্থন, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারদের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় দলীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠের চিত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কোনো দল একক প্রার্থী ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অবস্থানও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এতে সম্ভাব্য নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।
স্থানীয় ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্বাচন হলে তা যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং প্রার্থী ও সমর্থকদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চান তাঁরা।
সব মিলিয়ে ৪ নং রামনগর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়লেও এখনো নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র পরিষ্কার হবে।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুল উদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহত রাজনৈতিক দল এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনবান্ধন, সততা ও সার্বজনীন লোক, দলীয় ক্লিন ইমেজ, দলের জন্য ত্যাগ ও শ্রমকে মূল্যয়ন করা হবে।
