কালবেলা · সাধারণ
সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের মরদেহ দেখলেন মেয়ে
১৫/১০/২০২৬

ভিসা ও আইনি জটিলতায় ভারতে গিয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানান বাংলাদেশে থাকা একমাত্র মেয়ে হাফিজা খাতুন। পরিবারের আবেদনে সাড়া দিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের উদ্যোগে মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় মাকে শেষ দেখার সুযোগ পান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মুজিবনগরের নাজিরাকোনা সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৯ এর কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোছা. জাইরা (৭০) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার মালিয়াপোতা পোস্টের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজা খাতুন। তিনি ফিকির আলীর স্ত্রী। ভিসা ও আইনি জটিলতার কারণে ভারতে যেতে না পারায় মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগও ছিল না তার। এ অবস্থায় মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতা চান তিনি।
পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৯-এর কাছাকাছি শূন্যরেখায় মরদেহের শেষদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় হাফিজা খাতুন ও তার স্বজনরা জাইরার মরদেহ দেখার সুযোগ পান।
শেষদর্শনের সময় বাংলাদেশের পক্ষে মুজিবনগরের নাজিরাকোনা বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলাম ও তার দল উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে ছিলেন বিএসএফের ইন্সপেক্টর এস কে রায়সহ অন্য সদস্যরা।
মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাফিজা। এ সুযোগ করে দেওয়ায় বিজিবি ও বিএসএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান কালবেলাকে বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের মানবিক পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে থাকে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗