জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গণমানুষের আকাক্সক্ষার স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি’ শীর্ষক এক দিনের আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী কিছু শিল্পী নির্বাচন ও তাদের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশি চারুশিল্পী সংসদ। গতকাল সোমবার এক জরুরি সভায় এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত একটি আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় গতকাল। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগেই খবর প্রচার হলে সাধারণ শিল্পী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও সমর্থনকারী শিল্পীদের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং গত রোববার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপি দেয় বাংলাদেশি চারুশিল্পী সংসদ। আবেদনের অনুলিপি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়। আবেদনে প্রস্তাবিত আর্ট ক্যাম্পের অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা, তাদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিয়ে গতকাল আর্ট ক্যাম্পটি যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বাংলাদেশি চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আলী পাপ্পু ও সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজানসহ সংসদের অন্যান্য সদস্য ও চারুশিল্পীর উপস্থিতিতে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও স্মৃতির মর্যাদা রক্ষায় সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা, শিল্পী নির্বাচন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিল্পীদের এই তালিকা কে বা কারা তৈরি করেছেন, সভায় এ প্রশ্নটি বারবার উত্থাপিত হয়েছে।
এই আর্ট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের নাম নিয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন উপস্থাপিত হওয়ায় শিল্পী অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, শিল্পী অধ্যাপক কাউসার হাসান টগর, অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম, অধ্যাপক আব্দুল আযিয এবং অধ্যাপক ড. শামীম রেজা ওই আর্ট ক্যাম্প বর্জন করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি