পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে।
- প্রতিমন্ত্রীর পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত --জামায়াত
- হামলার শঙ্কা ও নিরাপত্তায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি: ইশরাকের বিবৃতি
মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে দেখা গেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে। এ ঘটনায় অস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় কোনো আইনি ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মূল্যায়নের জন্য এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।
সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবেন। সেখানে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আইনগত ব্যবস্থা নেবে। অভিযানে একজন মন্ত্রী পুলিশের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তাকে এক হাতে হ্যান্ড মাইক ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে পিস্তল উঁচিয়ে একদল লোককে তাড়া করছেন প্রতিমন্ত্রী। একপর্যায়ে অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়াও, দাঁড়াও’ বলে চিৎকার করে তাদের থামার নির্দেশ দেন তিনি। ওই সময় তার পাশে সাদা পোশাক পরা আরও একজন ব্যক্তিকে হাতে অস্ত্র নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে দেওয়া আরেকটি পোস্টে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
এদিকে, গতকাল রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়। তার দাবি, শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একদল ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এসময় নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন তারা। বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন বলেও জানান।
ইশরাক হোসেন দাবি করেন, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনও বাস্তবায়নাধীন। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান। বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এসময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত --জামায়াত
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পিস্তল উঁচিয়ে মহড়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
গতকাল রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ঘটাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, দেশের বিদ্যমান অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন না। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং তার দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত, আইনবিরোধী ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এ ঘটনার প্রতিকার কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ইশরাক হোসেন নিজের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। তিনি তাঁর এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না।
বিবৃতিতে সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মার্জিত ও জনবান্ধব পন্থায় মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান জামায়াতের এ নেতা।
