সংবাদ · সাধারণ
ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে স্বচ্ছলদের প্রকল্পের ঘর দেওয়ার অভিযোগ
২১/১০/২০২৬

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মানিকগঞ্জ জেলার বহু ঘরে এখন ঝুলছে তালা। কাগজে-কলমে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বজনপ্রীতির কারণে অনেক সচ্ছল ব্যক্তি ঘর পেয়েছেন। ফলে বিগত সরকারের পতনের পর এসব ঘরের বেশির ভাগই খালি পড়ে আছে।প্রকল্পের আশপাশের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত আশ্রয়হীনরা বাদ পড়েছেন। হস্তান্তরিত হলেও সুবিধাভোগীদের অনেকে নিজেদের মূল বাড়িতেই বসবাস করছেন।সরেজমিনে বেশ কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি ঘরের দরজায় ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ঘরের চারপাশে আগাছা ও ময়লা জমেছে। কিছু কিছু ঘর ব্যবহৃত হচ্ছে মালামালের গুদাম হিসেবে, আবার কোথাও কোথাও বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। অথচ একই এলাকায় বহু ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি প্রকল্পের ১৪টি ঘরের মধ্যে ৯টিতে এবং অন্য একটির ১২টি ঘরের মধ্যে ৫টিতে নিয়মিত তালা ঝুলছে।অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নথিতে দিনমজুর ও বিধবাদের সহায়তার কথা বলা হলেও বাস্তবে অনিয়মের মাধ্যমে ঘর পেয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘরের বর্তমান অবস্থা এবং সুবিধাভোগীদের পরিচয় নতুন করে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করে তাদের মাঝে ঘরগুলো পুনরায় বরাদ্দের দাবি তুলেছেন তারা।এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী জানান, জেলায় চার ধাপে মোট ১,৪৪৫টি ঘর নির্মাণের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিংগাইরে ৪০১টি, সাটুরিয়ায় ৫৯টি, শিবালয়ে ১৭৯টি, ঘিওরে ১০৫টি, হরিরামপুরে ২১৩টি এবং দৌলতপুরে ২২৩টি ঘর সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিতরণ কমিটির সভাপতি ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, 'যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কবুলিয়ত দলিল করা হয়েছে, তারা যদি ঘর ব্যবহার না করেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
মূল প্রতিবেদনে যান ↗