টেস্টের ইতিহাসে নয়া নজির লিটন দাসের। টানা দুই টেস্টে শূন্য করার পর বাংলাদেশ দলে জায়গা অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল লিটনের। সেখান থেকে কামব্যাকে নতুন রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশি উইকেটকিপার। উইকেটের পিছনে তাঁর বিশ্বস্ত হাতে বন্দি হলেন বিপক্ষ আফগানিস্তানের ব্যাটাররা। অন্যদিকে ব্যাট হাতেও সেঞ্চুরি হাঁকালেন লিটন। কিন্তু তাঁর নজিরের মর্যাদা রাখতে পারল না বাংলাদেশ। কার্যত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করল। সিদিকুল্লা অটলের সেঞ্চুরিতে রুদ্ধশ্বাস টেস্ট ড্র আফগানিস্তানের।
আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ তোলে ৩৪৬ রান। সেই ইনিংসে ৫৩ রান করেন লিটন। জবাবে আফগানরা ২৪০ রানে অলআউট হয়ে যায়। হ্যাটট্রিক-সহ ৫ উইকেট নেন পেসার হাসান মাহমুদ। সেখানে চারটি ক্যাচ ধরেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। এবার লিটনের ব্যাট থেকে আসে সেঞ্চুরি। ১১৭ বলে ১০২ রান করেন তিনি। ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৭২ রান তুলে ডিক্লেয়ার দেয় বাংলাদেশ। আফগানদের সামনে লক্ষ্য ছিল ৪৭৯ রান।
ব্যাট করে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি। এরপর উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ৯টি ক্যাচ ধরেছেন। সেখানেই নয়া নজির লিটনের। এক টেস্টে ৯ শিকার ও দুই ইনিংসে অন্তত হাফসেঞ্চুরি করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন। এর আগে এক টেস্ট দুই ইনিংসে অন্তত হাফসেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ৮টি আউট করার রেকর্ড করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন উইকেটকিপার ডেনিস লিন্ডস। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। ৬০ বছর পর তাঁকে ছাপিয়ে গেলেন লিটন।
কিন্তু তাঁর কৃতিত্ব ‘জলে’ গেল আফগানদের লড়াকু মানসিকতায়। একা দাঁড়িয়ে লড়ে যান সিদিকুল্লা অটল। ৩৩২ বলে ১১১ রানের অদম্য ইনিংস খেলে যান। কখনও রহমত শাহ, কখনও হাসমাতুল্লা শাহিদি সঙ্গ দেন। প্রশংসা প্রাপ্য টেলএন্ডারদের। ৬০ বলে ৪ রান করেন ইসমাত আলম। ৮৫ বলে ১৯ রান করেন ইয়ামিন আহমাদজাই। রানের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলের সংখ্যা। বাংলাদেশ বোলাররা ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন কোয়াইস আহমেদ। ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৬ রান করে তারা। হারতে হারতেও ড্র করে আফগানিস্তান।
