আলো ঝলমলে মণ্ডপ। প্রতিমা নিয়ে হইচই। উদ্বোধন হওয়ামাত্রই ভিড় জমাচ্ছিলেন অগণিত দর্শনার্থীরা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় আচমকা বিপর্যয়। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৯ জনের। আনন্দ করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি কেউ। এক লহমায় উৎসব রূপ নিয়েছে বিষাদের। বারবার থিমশিল্পীর দিকেও উঠেছে অভিযোগের আঙুল। এই পরিস্থিতিতে আগামী বছর কি ফের দুর্গাপুজোয় ফিরবেন থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল? তিলোত্তমার আনাচে কানাচে ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি।
এবার মোট চারটি পুজোর কাজ করেছিলেন সুশান্ত শিবানী পাল। চোরবাগান বিপর্যয় আজও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে থিমশিল্পীকে। তিনি বলেন, “আর কখনও পুজোর থিম করব কিনা জানি না।”
ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ গত ১৬ অক্টোবর, মাঝরাত পর্যন্ত চোরবাগানেই ছিলেন শিল্পী। আর তার পরের সন্ধ্যাতেই বিপর্যয়। কীভাবে যে এমন ঘটল, তা যেন এখনও বুঝতেই পারছেন না। তবে মনে মনে ভেঙে পড়েছেন। কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন। বাড়ি থেকে বেরতেও চাইছেন না। নিজেকে যেন গৃহবন্দি করেছেন। এই প্রথমবার অষ্টমী, নবমী, দশমী একেবারে একা কাটিয়েছেন। চোরবাগান বিপর্যয় আজও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে থিমশিল্পীকে। তাঁর মতে, এই মণ্ডপ তাঁর সৃষ্টি। আর সেই সৃষ্টি দেখতে এসেই প্রাণহানি হয়েছে। তাই নিজেই নিজেকে একেবারে ‘ক্লিনচিট’ দিতে পারছেন না শিল্পী। এই দুঃসহ স্মৃতির ভারে হয়তো পুজো থেকে চিরতরে বিদায় নিতে পারেন শিল্পী। আপাতত তাঁর কথায় তেমনই ইঙ্গিত। শিল্পী বলেন, “আর কখনও পুজোর থিম করব কিনা জানি না।”
এবার মোট চারটি পুজোর কাজ করেছিলেন সুশান্ত শিবানী পাল। প্রতি বছর পুজোয় ঠিক এমনই ব্যস্ততা থাকে তাঁর। কারণ, পুজো শেষ হতে না হতেই কোন পুজো উদ্যোক্তাদের হয়ে কাজ করবেন, তা স্থির করে ফেলেন থিমশিল্পীরা। এবারও বেশ কয়েকজন থিমশিল্পী আগামী বছর কোন মণ্ডপে কাজ করবেন, তা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। সুশান্ত শিবানী পাল কী করেন, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
