আগামী ৩১ অক্টোবর সাত দফা দাবি আদায়ে জামায়াতসহ ১১ দলের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের ঘোষণা দিয়ে নেতারা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর অংশ নেবে এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
আগামী ৩১ অক্টোবর ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে কুষ্টিয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রেস ব্রিফিং করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত কার্যালয়-সংলগ্ন হাজী শরীয়তুল্লাহ এতিমখানায় এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ৭ দফা দাবির ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য।” সরকার নির্বাচনের সময় জাতিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সাত দফা দাবির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও নিশ্চিত করা; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা; দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন; প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব পর্যায়ে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধ করা; এবং চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করা।
মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে সরকার পতনের কোনো দাবি নেই। আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং সরকার অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেবে। অন্যথায় সাত দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে।
মোবারক হোসাইন বলেন, সাত দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় দফায় আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন, ইনশাআল্লাহ।
তিনি জানান, ওই দিন সকাল ৮টায় প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ ও ফকিরহাট (বাগেরহাট) হয়ে রূপসা সেতু দিয়ে খুলনায় পৌঁছাবে বহরটি। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
লংমার্চের পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায়, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে সকাল ১১টায়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায় এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে বিকেল ৫টায় পথসভা হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মোবারক হোসাইন আরও বলেন, কুষ্টিয়ার এই সমাপনী কর্মসূচি কেবল জনসভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের মহাসমুদ্রে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ. কে. এম. আলী মহসিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. এনামুল হকসহ জেলা ও স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
