বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস। বুধবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমে সহযোগিতা, লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ইউএনডিপি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নেও ইউএনডিপি ইতিবাচক অবদান রাখছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। জেন-জি ও ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ তৈরি করেছে। জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ ছিল নানা চ্যালেঞ্জে পূর্ণ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র এগিয়ে নেওয়া, ক্ষমতার সুষ্ঠু হস্তান্তর ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউএনডিপির সহযোগিতামূলক সম্পর্কের যাত্রা শুরু। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমেও সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ আয়োজনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা দিতে ইউএনডিপি প্রস্তুত। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটিগুলোকে সহায়তা এবং লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়নেও সংস্থাটির আগ্রহ রয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রকাঠামোয় আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের মূল্যায়ন জরুরি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং বাস্তবভিত্তিক ও জ্ঞাননির্ভর মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
