জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
আজ ১৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ ইসমাইলের স্ত্রী। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ৩৮ বছর বয়সী লাকির গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলায়। বর্তমানে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বসবাস। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হন তার স্বামী।
লাকি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন ইসমাইল। মাগরিবের নামাজের সময় আমার ছেলের বন্ধু এসে বলে যে- তোমার বাবা ডেলটা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। সংবাদটি শোনার পর আমি ও আমার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখি ভ্যানে করে স্বামীর মরদেহ বাসায় নিয়ে এসেছেন আমাদের এক প্রতিবেশী। আমার স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বের হয়ে যায়। মাথায় গুলি লাগায় তার সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল। তিনি বলেন, মৃত স্বামীর মাথা ব্যান্ডেজ করার জন্য আমরা বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কারণ ব্যান্ডেজ না করে তার দেহ নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় স্বামীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছিলাম না। তখন আমার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বেটার লাইফ হাসপাতালে আসেন। পরে আমি, আমার ছেলে ও নিকটাত্মীয়রা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই।
ইসমাইলের স্ত্রী জানান, মরদেহ নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা তাদের নানাভাবে হেনস্তা করে। তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখেন। ইসমাইল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জানিয়ে মিথ্যা কথা বলার পর গ্রামে যেতে দেন তারা।
লাকি বলেন, ২০ জুলাই আমার স্বামীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিজিবির রেদোয়ান, রাফাত, পুলিশের রাশেদুল ও মশিউর ছিলেন। এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামী হত্যার বিচার চান তিনি।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশিদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।
পলাতকরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রামপুরায় ২৮ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে চারজনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: মানবতা বিরোধী অপরাধ
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
