Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে আহতদের কেন বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলো? এ নিয়ে সরব হয়েছিলেন কলকাতা মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা হলে কি রাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম সর্বোচ্চ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে? বুধবার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়ে চোরবাগান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে বলছিলেন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে আহতদের নিয়ে যাওয়া হলো। তবে কি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যর্থ? হ্যাঁ মেডিক্যাল কলেজে যে হেলথ সিস্টেম ছিল, প্রাইভেটে নিয়ে গিয়েছিলাম বলে ২৫টা লোকই বাড়ি ফিরে গেলেন। সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থায় তো কম আছে।’
১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর সন্ধেয় চোরবাগান সর্বজনীন পুজো প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বহু। আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক ভাবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখান থেকে ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এক নজরে
মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ১৭ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।
হাসপাতাল স্থানান্তর: আহতদের প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
বিতর্ক: আহতদের স্থানান্তর নিয়ে কলকাতা মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের পর ২৫ জন আহত বাড়ি ফিরেছেন।
সে দিন রাতেই এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কলকাতা মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ‘একটি টার্শিয়ারি হাসপাতাল থেকে কী ভাবে একজন রোগী রেফার হয়? তা হলে সরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ভবন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানুষের সামনে একপ্রকার স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের শীর্ষস্থানে থাকা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে উন্নতমানের চিকিৎসার যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে?’
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেন সে দিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সে দিন মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ক্ষমার অযোগ্য ভুল আমি বলব। আমাদের সহনাগরিক ১৯ জন মারা গিয়েছেন। ক্ষমা করা যাবে না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হবে, অ্যাকশনও হবে। কলকাতা পুলিশের ডিডি তদন্ত করছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির টিম হয়েছে। আজ নোটিফিকেশনও হচ্ছে। আমরা চাইছি ফুলপ্রুফ থাকতে।’
FAQs
১. চোরবাগান পুজো মণ্ডপে কবে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে?
১৭ অক্টোবর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
২. এই ঘটনায় কতজনের মৃত্যু হয়?
পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।
৩. আহতদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল?
আহতদের প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
৪. আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক কেন?
কলকাতা মেডিক্যালের জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের অন্যতম প্রধান সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে আহতদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন কেন পড়ল? এর ফলে সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
৫. চোরবাগান কাণ্ডের তদন্ত কে করছে?
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের ডিডি তদন্ত করছে। পাশাপাশি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রক্রিয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।