Published on
:
2 min read
সুপর্ণ মুখোপাধ্যায়
পরিজনের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার ছবি, জন্মদিনের উদ্যাপন কিংবা সন্তানের স্কুলের প্রথম দিন— ভেবে দেখুন তো আপনাদের মধ্যে কে কে এই বিশেষ দিনগুলোর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেননি? প্রশ্নটা শুনে মনে হতেই পারে, এই পোস্ট করার মধ্যে সমস্যা কোথায়। কিন্তু সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর নয়, এমন পোস্টগুলো থেকেই আপনার পরিচয় বা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য সহজেই বেরিয়ে আসতে পারে, যা আপনাকে শিকার বানাতে পারে সাইবার অপরাধের। এই সপ্তাহের আলোচনাটা সেটা নিয়েই।
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টই এখন ডিজিটাল দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় ঝঁুকি হলো, ব্যবহারকারীরা আদৌ বুঝতেই পারছেন না, এই পোস্টগুলো করে তাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত অনেক তথ্য তুলে দিচ্ছেন সাইবার অপরাধীদের হাতে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সাইবার থ্রেট রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সাইবার প্রতারকরা এখন যে কোনও সময়ে পরিচিত নাম, ছবি ও অন্য তথ্য ব্যবহার করে ফেক প্রোফাইল তৈরি করছে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে সেই ব্যক্তির বন্ধুবান্ধব বা পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা করা হচ্ছে।
তাই সাইবার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন কোন ধরনের পোস্ট করা থেকে বিরত থাকবেন। দেখে নেওয়া যাক তালিকাটা—
ফোন নম্বর এবং ব্যক্তিগত ইমেল অ্যাড্রেস, বাড়ির ঠিকানা এবং কর্মস্থলের বিবরণ, লাইভ লোকেশন এবং রিয়েল-টাইম চেক-ইন, বেড়ানোর পরিকল্পনা এবং ছুটির দিনের সফরসূচি। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি জিনিস শেয়ার না করাটাই ভালো। সেগুলি হলো, বোর্ডিং পাস, টিকিট এবং বুকিংয়ের খুঁটিনাটি, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং অন্য পরিচয়পত্র, আর্থিক তথ্য এবং লেনদেনের স্ক্রিনশট, ছেলে-মেয়ের স্কুল, রোজকার রুটিন বা যাতায়াতের রাস্তার তথ্য, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা যে কোনও সংবেদনশীল তথ্য। এই তথ্যগুলো অনেক ক্ষেত্রেই হামেশাই শেয়ার করা হয়। ডিজিটাল অসাবধানতার কারণে আর্থিক, বা আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়াও সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের ছবির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া দরকার। কারণ, স্কুলের ইউনিফর্ম পরা একটি শিশুর ছবি থেকে তার স্কুলের নাম ও অবস্থান সহজেই চেনা যেতে পারে। আজ যা একটি সাধারণ পারিবারিক আপডেট মনে হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ওই শিশুর একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডেন্টিটি হয়ে উঠতে পারে।
তাই যে কোনও পোস্ট করার আগে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন! এই পোস্ট কি আমি কোথায় আছি তা প্রকাশ করছে? আমি কার সঙ্গে আছি, তা কি জানা যাচ্ছে? এই রকমের কয়েকটি সহজ প্রশ্ন নিজেকে করলেই অনেক সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারবেন।
এই দেশের ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ব্যক্তিগত ডেটা দায়িত্বশীল ভাবে ব্যবহারের উপরে জোর দেয়। এ ছাড়া সম্মতি ছাড়া অন্যের তথ্য প্রকাশ, হেনস্থা, মানহানি বা ছদ্মবেশ নেওয়ার জন্য কঠোর আইনও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই সবচেয়ে নিরাপদ পোস্ট সেটিই, যা শেয়ার করার আগে ব্যবহারকারী নিজে নিজেকে প্রশ্ন করবেন—
‘এই তথ্যটি অনলাইনে দেওয়ার কি সত্যিই কোনও প্রয়োজন আছে?’
