সন্তান জন্মের পর সন্তানের আকিকা করা ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা মুস্তাহাব বা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকীকার পশু জবাই করা হবে, তার মাথার চুল মুণ্ডন করা হবে, এবং তার নাম রাখা হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৮)
শিশুর সুন্দর নাম রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ইসলামে। কারো নাম অসুন্দর হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তা পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রেখে দিতেন। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) অসুন্দর নাম পরিবর্তন করে দিতেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৩৯)
রাসুল (সা.) এক নারীর নাম ‘আসিয়া’ থেকে পরিবর্তন করে ‘জামিলা’ রেখেছিলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৩৯)
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহ.) বর্ণনা করেন, তার পিতা একবার নবীজির (সা.) কাছে এলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কী? তিনি বললেন, ‘হাযন’ (কঠোরতা)। তখন তিনি বললেন, তোমার নাম হবে ‘সাহল’ (সহজ-সরল)। তিনি বললেন, আমার পিতা যে নাম রেখেছেন, আমি তা পরিবর্তন করব না। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহ.) বলেন, এরপর থেকে আমাদের বংশে সেই কঠোরতার প্রভাব বিদ্যমান রয়ে গেছে। (সহীহ বুখারী, ৬১৯০)
আরও পড়ুন
অসুন্দর বা অনুপযুক্ত নাম পরিবর্তন করে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা মুস্তাহাব। তবে শরিয়তে যেসব নাম রাখা নিষিদ্ধ, সেগুলো পরিবর্তন করা আবশ্যক। সকল ফকিহের অভিমত হলো, আল্লাহ তায়ালার জন্য বিশেষায়িত নাম, যেমন রাজ্জাক, কুদ্দুস অথবা এমন উপাধি, যা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্যই উপযুক্ত যেমন, মালিকুল মুলুক, সুলতানুস সালাতীন ও হাকিমুল হুক্কাম এসব নাম মানুষের জন্য রাখা জায়েজ। তবে কেউ এ ধরনের নাম রাখলে তা পরিবর্তন করা জরুরি।
একইভাবে যেসব নামের অর্থে শিরকের আভাস বা গন্ধ রয়েছে, যেমন আবদুর রাসুল, আবদুন নবী ইত্যাদি, সেগুলোও পরিবর্তন করা আবশ্যক।
তবে মনে রাখতে হবে, নাম পরিবর্তনের সঙ্গে আকিকার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই আকিকার পরও নাম পরিবর্তন করা যাবে বা নাম পরিবর্তন করলেও পুনরায় আকিকা দিতে হবে না। কারণ, হাদিসে একবারই আকিকা করতে বলা হয়েছে। একবার করা হয়ে গেলে আবার নতুন করে আকিকা করতে হবে না।
এনটি
