অবশেষে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়স পরিষদ নির্বাচন (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে এই ঘোষণা দেয়। এ সময় ৫ ধাপে দেশের ৪ হাজার ৩০০’র মতো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়। যার প্রথম ধাপ শুরু হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। আর শেষ হবে ২৭ মে। কমিশন জানিয়েছে পাঁচ ধাপে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এই পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনি কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন। প্রথম ধাপ : আগামী ২১ জানুয়ারি (প্রায় ৮০টি উপজেলায়) ভোট, ৪ ফ্রেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ভোট, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের, ১৩ মে চতুর্থ ধাপের এবং ২৭ মে পঞ্চম ধানের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ৮১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ইউপি নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কত ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে, তা নির্ধারণে গতকাল সোমবার কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, প্রতিটি তারিখই বৃহস্পতিবার পড়েছে। প্রতি নির্বাচনের ৬ সপ্তাহ আগে তফসিল ঘোষণা করবে জেলা প্রশাসক। এদিকে ইসি সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদ তথা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তরগুলোর একটি। এ নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হন। ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতি, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি কমিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইসির এই নির্বাচনের ধাপ ও তারিখ স্পষ্ট করেছে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি আরো স্পষ্ট হলো। এখন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিটি এলাকার নির্বাচনি কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
যেসব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় পার হয়ে গেছে বা এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচনী চক্রের আইনি মেয়াদ পূর্ণ হবে, সেগুলোতে ২৭ মে’র মধ্যে ভোট সম্পন্ন করা হবে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপ ১৩ মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মে। নির্বাচনে কোনো একক অঞ্চলকে আলাদা না করে সব জেলায় একযোগে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জেলা সদর উপজেলাগুলো এবং যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পার হয়ে গেছে (ওভারডিউ), সেগুলোকে প্রথম দিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ইউপি নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার পরেও ইসি নির্বাচন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম নিয়ে জানিয়েছে, সারাদেশে এসব ইউনিয়ন পরিষদর নির্বাচনসুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে পুরো নির্বাচনকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। কমিশন পর্যায় থেকে প্রতিটি ধাপের স্লট বা সময়সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা স্ব স্ব এলাকার আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবেন।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্ত করেন।
ইসি সূত্র জানায়, সারাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে পুরো নির্বাচনকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। কমিশন পর্যায় থেকে প্রতিটি ধাপের স্লট বা সময়সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা স্ব স্ব এলাকার আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবেন।
এর আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা এবং জনগণের কাছে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি বাছাই করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী স্থানীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক দামামা বেজে উঠল। সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত জনপ্রতিনিধিরা যেন নির্বাচিত হয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পৌঁছে দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
রোডম্যাপ ঘোষণা : ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল কমিশন সভা শেষে এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ইসি সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে ৫ ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর আগে গতকাল ইউপি ভোটের তারিখ নির্ধারণে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়। বৈঠকে অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, সভার আলোচ্যসূচি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনগুলোর বিষয়ে আলোচনা শেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ নির্ধারণ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এ ছাড়া পার্সোনালাইজেশন সেন্টারে অবস্থিত মেশিনগুলোর অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, কার্ড প্রিন্ট, বকেয়া বিল পরিশোধ, নতুন চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি বিষয়ে গঠিত কমিটির কার্যবিবরণী পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রদান। জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন এবং বিবিধ বিষয়ও রয়েছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, গতকাল কমিশন সভায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে সামনে বিশ্বইজতেমার আখেরি মোনাজাত ১৭ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধ বিবেচনা করে প্রথম ধাপের ভোটের তারিখ ২১ জানুয়ারিতে নির্ধারণ করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
বিআলো/অর্নব