কলকাতা মেডিক্যালে ১১০ জনের উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়ে গিয়েছে। আর ১০ জন হলেই পূরণ হবে লক্ষ্যমাত্রা। আসছে নতুন বড়ি। যার একটা খেলেই সারবে ম্যালেরিয়া। সব চেয়ে বড় কথা, আর ফিরে আসবে না মশাবাহিত অসুখ! এই ওষুধ তৈরির ছাড়পত্র মিললে যুগান্তকারী ফল আসবে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ম্যালেরিয়ার নেপথ্যে স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়। প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবী ঢোকে মানুষের শরীরে। সেটি প্রথমে লিভারে ও পরে রক্তের লোহিত কণিকায় বংশবৃদ্ধি করে। লিভারে প্রবেশ করার পর ম্যালেরিয়ার কিছু জীবাণু লিভারের কোষে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায়। এদের বলা হয় হিপনোজোয়াইট। এরা প্রথমবার ম্যালেরিয়া সেরে যাওয়ার পর ফের জেগে উঠে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই আবার ফিরে আসে ম্যালেরিয়া। নয়া ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ওষুধ ঠেকাবে সেটাকেই।
সারা দেশজুড়ে ৩৫০ জনের উপর হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। দেশের তিনটে মাত্র জায়গায় হচ্ছে এই ট্রায়াল। মুম্বই, গুজরাত, কলকাতায়। জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, “এই ওষুধ সফল হলে ঘুরে আর ম্যালেরিয়া হবে না।”
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, সারা দেশজুড়ে ৩৫০ জনের উপর হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। দেশের তিনটে মাত্র জায়গায় হচ্ছে এই ট্রায়াল। মুম্বই, গুজরাত, কলকাতায়। জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, ‘‘এই ওষুধ সফল হলে ঘুরে আর ম্যালেরিয়া হবে না।’’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নজর রেখেছে এই ট্রায়ালের ওপর। সূত্রের খবর, মাস তিনেকের মধ্যেই তৈরি হবে নতুন ওষুধ। গ্ল্যাক্সো কোম্পানি তা তৈরি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তবে গ্ল্যাক্সো বাজারে তা বিক্রি করবে না। ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সমস্ত ওষুধ নেবে ভারত সরকার। বিনামূলে্য তা পাওয়া যাবে সরকারি হাসপাতালে।
ডা. অরুণাংশু তালুকদার জানিয়েছেন, ‘‘সরকারি হাসপাতালে এই ওষুধ পাওয়া গেলে আমজনতার খুবই সুবিধা হবে। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তার অনেকখানি সুফল পাবে সরকারি হাসপাতাল। বারবার ম্যালেরিয়া ঠেকানো গেলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। কর্মক্ষমতা বাড়বে। এতে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারি হাসপাতালের শয্যা সীমিত। একজন রোগীকে এতদিন বারবার ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হতে হত। নয়া ট্যাবলেট কার্যকর হলে ম্যালেরিয়া ফিরে আসবে না। এই শয্যাগুলি অন্য রোগীর চিকিৎসায় কাজে লাগবে।’’
