

মা ইলিশ রক্ষায় লৌহজংয়ে সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে অভিযান, ৫ জেলে আটক, বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে পাঁচ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের নেতৃত্বে পদ্মা নদীর লৌহজং অংশে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু, নৌপুলিশের ইনচার্জ মো. মালেক খসরু খান ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পাঁচ জেলেকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নেত্রকোনায় শিক্ষা খাতের উন্নয়নকাজ সরেজমিনে দেখলেন সিনিয়র সচিব
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাবিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক নেত্রকোনায় দুই দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার আগমন করেন। তিনি নেত্রকোনা পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মুনমুন জাহান লিজা,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মনিজা খাতুনসহ প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। সফরকালে সিনিয়র সচিব নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন ও উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করেন। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ সিনিয়র সচিব মহোদয়কে স্বাগত জানান। এছাড়াও সিনিয়র সচিব জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের রূপকল্প, দৃঢ় প্রত্যয় এবং অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন।

সকালে মারামারি, রাতে প্রাণ গেল যুবদল নেতার
সকালের বিরোধের রেশ গড়াল রাতের হত্যাকাণ্ডে। বরিশালের উজিরপুরে কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহত কাওসার হাওলাদার উপজেলার আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সজল মোল্লাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমদী এলাকার আশিকুল হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনার জেরে সজলের ভাই ইকবাল হোসেন নান্না ফেসবুকে প্রতিশোধের ইঙ্গিত দিয়ে স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২১ অক্টোবর তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সাতলার একতা বাজার এলাকায় আগের বিরোধের জেরে ইকবাল হোসেন নান্না ও তাঁর ছেলে সাজিদ মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে আশিকুল, কাওসার ও রাশেদ আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সকালের মারামারির খবর পেয়ে সজল হাওলাদার ও শামীম হাওলাদার ঢাকায় অবস্থানকালে একটি হাইয়েস গাড়িতে করে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাতে পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে কাওসারকে পেয়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি হাইয়েস গাড়ি থেকে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

কুষ্টিয়ায় বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
কুষ্টিয়ায় বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিআরবি কেবলস লিমিটেডের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে শেষ হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিআরবি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ মজিবর রহমান বলেন, “আপনারা সবাই খারাপ পথ থেকে সরে আসুন। ভালো কাজ করুন, ভালো পথে চলুন। আপনারা বিআরবিকে দেখলে বিআরবিও আপনাদের দেখবে। বিআরবিকে না দেখলে বিআরবি আপনাদের কীভাবে দেখবে? “আমার তো যাওয়ার সময় অনেক আগেই হয়ে গেছে। যেকোনো সময় চলে যেতে হবে। তাই আপনারা সকলে মিলে কোম্পানিকে সহযোগিতা করবেন। এখন আর মন চায় না, খারাপ লাগে, কষ্ট লাগে। এত গালাগালি করি আপনাদের, আমি তো আপনাদের অভিশাপ কুড়াচ্ছি। তবে আমার বিশ্বাস, আপনাদের অভিশাপ আমার কোনো কাজে আসবে না। আমি তো আপনাদের সঙ্গে কোনো অন্যায় করিনি। সর্বদা আপনাদের হক আদায়ের চেষ্টা করেছি। আমার বয়স ৮০ হয়েছে, তবুও আমি এখনো রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করি।” তিনি আরও বলেন, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত না করলে বিদেশে সেই পণ্য বিক্রি করা যায় না। নতুন পণ্য হিসেবে সোলার প্যানেল সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণাধীন হাসপাতালটির কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকে ভাবেন, হচ্ছে না কেন, বানানো হচ্ছে না কেন? আমরা কাজ করে যাচ্ছি, শেষ করার চেষ্টা করছি। অনেক লোক কাজ করছে, তবুও শেষ করতে পারছে না। সেখানে আপনাদের দোয়া প্রয়োজন। কোম্পানি ও আমার পরিবারের জন্যও আপনাদের দোয়া কামনা করি।” উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ২৩ অক্টোবর কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্পনগরীতে বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশীয় বাজারে তার ও কেবলের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও কারখানা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিআরবি ক্রমাগত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। নব্বইয়ের দশকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পর ২০০০ সালের দিকে উচ্চচাপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেবলসহ নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনে যুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। পর্যায়ক্রমে টেলিফোন কেবল, অপটিক্যাল ফাইবার ও জাহাজে ব্যবহারযোগ্য কেবলও পণ্যতালিকায় যুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত কেবল বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, রেলওয়ে, বন্দর, শিল্পকারখানা ও আবাসন প্রকল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কুষ্টিয়ায় গড়ে ওঠা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশের বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরিতে সহায়তা করেছে: জামায়াত আমির
‘আগে দেখেছি, বিরোধী দলের সভাপতি-সেক্রেটারি কে হবেন, সেটিও সরকার ঠিক করে দিত। গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে। এখন গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।’ এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজ জেলা মৌলভীবাজারে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের মুন হলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আগে দেখেছি, বিরোধী দলের সভাপতি-সেক্রেটারি কে হবেন, সেটিও সরকার ঠিক করে দিত। গণমাধ্যমই ফ্যাসিস্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছে। এখন গণমাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।’- এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজ জেলা মৌলভীবাজারে সাংগঠনিক সফরে গিয়ে সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজের মুন হলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা মৌলভীবাজার জেলা শহরে এটি জামায়াত আমিরের প্রথম সফর। তাকে ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শনিবার সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামায়াত আমিরকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সিলেট মহানগরী নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগরী সেক্রেটারি শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া ও ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ প্রমুখ। জামায়াত আমিরের সফরসঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির মো. ফখরুল ইসলাম ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। সকাল ৯টায় ডা. শফিকুর রহমান মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে পৌঁছালে জেলার পক্ষ থেকে তাকে অভ্যর্থনা জানান মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ নেতারা। এ সময় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জামায়াত আমির মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ৬০৩টি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সব রুকন ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে ডেলিগেট হিসেবে অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত দায়িত্বশীল ওয়ার্ড সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি কোর্ট মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর জেলা সার্কিট হাউজে ১১ দলীয় জোটের মৌলভীবাজার জেলা নেতৃবৃন্দ জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দুপুরের খাবারে অংশ নেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দুই বছর পরপর জেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য মৌলভীবাজার জেলা আমির নির্বাচনের ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে দুপুর ২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে জেলার ৬০০ রুকন অংশগ্রহণ করবেন। রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। সম্মেলনে বক্তব্য শেষে বিকাল ৪টায় সিলেট বিমানবন্দরের উদ্দেশে মৌলভীবাজার ত্যাগ করবেন জামায়াত আমির। জামায়াত নেতারা জানান, ডা. শফিকুর রহমানের এই সাংগঠনিক সফর দলের জনশক্তির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার করবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কটিয়াদীতে ৪০ দিন জামাআতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পেল ১৪ শিশু
শিশুদের মসজিদমুখী করা এবং নিয়মিত জামাআতে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের পশ্চিম মসূয়া গ্রামের প্রবাসী ও স্থানীয় যুবকেরা। টানা ৪০ দিন জামাআতে নামাজ আদায়ের শর্ত পূরণ করে ১৪ শিশু পেয়েছে বাইসাইকেল। এ ছাড়া আরও পাঁচ শিশুকে দেওয়া হয়েছে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে টেবিল লাইট। শুক্রবার বিকেলে পশ্চিম মসূয়া বাইতুল আকসা জামে মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের হাতে এসব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। শিমুহা আব্দুল মাজিদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মসূয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও নূর হুসাইল আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুল ইসলাম। বাইতুল আকসা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা তানযীল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মসূয়া উমর বিন খাত্তাব (রা.) জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জহিরুল ইসলাম তিতাস, আছিমুন্নেছা ইসলামিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট সালাফিয়্যাহ কওমি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা রাকিবুল হাসান এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রভাষক মো. আল-আমিন হুসাইন। এ সময় স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা জানান, এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের পুরস্কৃত করা নয়; বরং ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে নিয়মিত নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং মসজিদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করা। টানা ৪০ দিন জামাআতে নামাজ আদায়ের এ কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে নামাজের প্রতি আগ্রহ ও নিয়মিত মসজিদে আসার অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। এলাকাবাসী মনে করেন, শিশুদের ধর্মীয় অনুশীলনে উৎসাহিত করতে এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রবাসে থেকেও এলাকার শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রশংসনীয়। পশ্চিম মসূয়া গ্রামের এ উদ্যোগ অন্য এলাকার মসজিদগুলোতেও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুদের মনে নামাজের প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে তাদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে।


