সাইবার হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এতে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী হামলার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
বর্তমানে সরকারি সেবা, ব্যাংকিং, ই-কমার্স, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার জন্য ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব ওয়েবসাইটের বড় একটি অংশ পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তাগত দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের সিংহভাগ পরিচালনাকারী একটি প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বেশ কয়েকটি সরকার এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্থা তাদের ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একজন গবেষক পিএইচপি নামক একটি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়।
এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রদান করেছেন বিবিসির সাইবারবিষয়ক প্রতিনিধি জো টাইডি। তিনি জানান, এটি একটি অসাধারণ ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতি, যেখানে আইটি টিমগুলো তাদের সংস্থাকে একটি অত্যন্ত মারাত্মক সাইবার হামলার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে তড়িঘড়ি চেষ্টা করায় একের পর এক ওয়েবসাইট অফলাইনে যেতে দেখা গেছে।
উদাহরণস্বরূপ, এডিনবরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইট, বিবিসি ওয়েবসাইটের ‘ডক্টর হু’ সেকশন, পাশাপাশি জাপান, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইট অফলাইন করা হয়েছে।এমনকি কিছু সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ওয়েবসাইটও বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও তারাই জনগণকে এর গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করার চেষ্টা করছিল।
এ জন্য বৈশ্বিকভাবে সাইবার হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
