
চিতলমারীতে রোগীর চাপে ঠাঁই নেই হাসপাতালে, জনবল সংকটে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি। প্রতিটি ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। জ্বর, টাইফয়েড, ডাইরিয়া, হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় অনেকের মধ্যে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এতে প্রতিনিয়ত স্থানীয় ক্লিনিক ও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে রোগীদের। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসা দিতে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত সহযোগীতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিতলমারী উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রেটি মাত্র ৫০শয্যার। বর্তমানে এখানে প্রায় দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগীর চাপে বর্তমানে চরম শয়্যা সংকটে পড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।
শয্যা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে। এমনকি মেঝেতেও অতিরিক্তরোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবার পাশাপাশি বাড়ছে ময়লা আবর্জনা ও পানির সংকট। হাসপাতালের প্রতিটি পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড শয্যা পূর্ণ হয়ে গেছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই বললেই চলে। জ্বর, নিউমোনিয়া,শ্বসকষ্টজনিত,ডাইরিয়া, হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে বলে জানালেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন জানান, তিন দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছি। অতিরিক্ত গরম আর সিটের অভাবে বাচ্চার কষ্ট আরও বেড়েছে। তাও নিরুপায় হয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে,কারণ বাইরে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ নেই। রোগীদের এ উপচে পড়া ভিড় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও সেবিকারা।
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী সামলাতে গিয়ে ডাক্তারদের দৈনিনন্দিন চিকিৎসাসেবা দিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও পরিচ্ছন্নকর্মী ও ঔষধের ঘটতি থাকায় ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করছে। মেঝে বারান্দয় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবেনিশ্চিত করতে গাসপাতালটি দ্রুত ১০০শয্যায় উন্নীত করা এবং পদে প্রজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরী বলে মনে করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: সর্মী রায় জানান, এ উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন দুর-দুরান্তের গ্রামগুলো থেকে প্রচুর রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে। তবে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যওয়ার চেষ্টা করছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা বলে অভিমত দেন তিনি।
