ছোট ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন রীনা রানী ঘোষ (৪০)। রাজধানীর ওয়ারীর টিকাটুলিতে পদচারী–সেতুর নিচে রাস্তা পার হওয়ার সময় বন্ধন ও দোয়েল পরিবহনের দুটি বাসের পাল্লাপাল্লির মধ্যে পড়ে প্রাণ হারান তিনি। দোয়েল পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন রীনা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দোয়েল পরিবহনের বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে চালককে।
নিহত রীনা রানী ঘোষের বড় ছেলে প্রণয় ঘোষ জানান, তাঁর ছোট ভাই নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুরে ছোট ভাইকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন তাঁদের মা। টিকাটুলিতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বন্ধন ও দোয়েল পরিবহনের দুটি বাসের পাল্লাপাল্লির মধ্যে পড়ে যান তিনি। এ সময় দোয়েল পরিবহনের বাসটি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। বিকেল চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক আবু বক্কর বলেন, রীনা রানীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দোয়েল পরিবহনের বাসটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়েছে।
রীনা রানী ঘোষের স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষ পেশায় মাছ কাটার শ্রমিক। রীনা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। দুই সন্তানের জননী রীনা পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর টিকাটুলির কে এম দাস লেনে থাকতেন।
সানা/আপ্র/১৩/১০/২০২৬
