এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একার হাতে দলকে জেতালেন। তিলক বর্মার থেকে একই রকম ইনিংস দেখা গেল শনিবার ক্রাইস্টচার্চে। কার্যত হারা ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন ভারতকে। ভারতের নতুন ‘ফিনিশার’ হয়ে উঠেছেন তিনিই। ম্যাচের পর তিলক ফাঁস করেছেন রান তাড়া করার রহস্য এবং কোচ গৌতম গম্ভীরের কথায় অনুপ্রাণিত হওয়ার কাহিনি।
পাঁচ উইকেট পড়ার পরও কি ভেবেছিলেন দলকে জেতাতে পারবেন? প্রশ্নের উত্তরে তিলকের জবাব, “সেই সময়ে একটাই ভাবনা ছিল। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকা। এই ম্যাচের আগে গৌতম স্যর এবং সীতাংশু কোটাক স্যরের সঙ্গে কথা বলেছি। দু’জনেই একটা কথা আমায় বলেছিলেন। ওঁরা এবং গোটা দেশ আমার উপরে বিশ্বাস রাখে। যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারি তা হলে দেশকে জেতাতে পারব। সেটাই আমার মাথায় চলছি। আমি খেলাটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেত চেয়েছিলাম। দিনের শেষে লোকের বিশ্বাস রাখতে পেরেছি। আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত।”
পঞ্চম উইকেটে নমন ধীর এবং ষষ্ঠ উইকেটে নীতীশ রেড্ডির সঙ্গে তিলকের জুটি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেই জুটি নিয়ে তিলকের জবাব, “নমনকে বলেছিলাম শেষ পর্যন্ত টিকে থাকব। আগের ম্যাচের চেয়ে আজ পিচ বেশ মন্থর ছিল। তাই নমনকে বলেছিলাম, স্পিনারেরা বল করার সময় দৌড়ে বেশি রান নেওয়ার চেষ্টা করব। ওদের বোলিংয়ের সময় ক্রিজ কামড়ে পড়ে থেকেছি। দুর্ভাগ্যবশত মিচেল স্যান্টনারের শেষ ওভারে নমন আউট হল। না হলে আমরা ১৯ ওভারে, ভুল বললাম, ১৮ ওভারের মধ্যে খেলা শেষ করে দিতে পারতাম। নমনের ব্যাটিংয়ের কৃতিত্ব ওরই। তার পর দুই হায়দরাবাদি মিলে দলকে জিতিয়েছি। নীতীশের সঙ্গে ম্যাচ শেষ করতে পেরে খুব খুশি।”
বিপক্ষ অধিনায়ক স্যান্টনার এ দিন চারটি উইকেট নিয়েছেন। ভাল বল করেছেন আর এক স্পিনার মাইকেল ব্রেসওয়েলও। তিলক জানিয়েছেন, তাঁদের পরিকল্পনা ছিল স্পিনারদের ওভার কোনও মতে কাটিয়ে দেওয়া। তিলকের কথায়, “পরিকল্পনা ছিল, ওরা আমাদের পছন্দের জায়গায় বল করলে তবেই মারব। না হলে ফাঁক খুঁজে খুচরো রান নেব। সেটাই করেছি। স্পিনারদের বিরুদ্ধে দৌড়ে দু’রান নিয়েছি চার-পাঁচ বার। সেটা আট-দশ রান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে বুদ্ধি কাজে লাগিয়েছি। বিরাট এই মাঠে পেসারদের আক্রমণ করা দরকার ছিল।”
