সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে টানা তৃতীয় দিনের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে।
একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবিও করেছে হুথিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।
আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিবরণে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহনকেন্দ্র কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। শনিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর রোববারও বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানে একটি অজ্ঞাত বস্তু। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ওই ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
ধারাবাহিক হামলার কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
পরপর হামলার পর সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা কীভাবে বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিরা প্রথমে একাধিক ড্রোন পাঠিয়ে পরে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনো চলমান। হামলার পূর্ণাঙ্গ কৌশল এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সম্ভাব্য দুর্বলতার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবার রাতে রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবরও দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের হামলার সমালোচনা করেছেন। তবে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং হামলার জবাবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এ মুহূর্তে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তদন্ত এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়াই সৌদি কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
The post টানা তৃতীয় দিন রিয়াদে হুথিদের হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের appeared first on ভোরের চেতনা.
