ক’দিন আগেই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কে প্রথমবারের জন্য সমর্থন করতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে। কিন্তু এরপরও বেঙ্গালুরুতে তেরঙ্গা মার্চ করার অনুমতি পেল না ‘আরশোলা’রা। যা হাত শিবিরের দ্বিচারিতাকেই তুলে ধরছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর টাউন হলে তেরঙ্গা মার্চ করতে চেয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু প্রশাসনের তরফে সেখানে আন্দোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্ককে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে বেছে নিতে বলা হয়েছে। যদিও কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেছেন, টাউন হলে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনার বিষয়ে সিজেপি কংগ্রেস সরকারকে কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারির তীব্র সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে তেরঙ্গা পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের কারারুদ্ধ করা কাপুরুষোচিত কাজ।” প্রতিবাদের বিষয়বস্তু এক হলেই এতদিন কংগ্রেস বা রাহুল ‘ককরোচ’দের দূরত্ব বজায় রেখেছিল। কিন্তু এবার তাঁরা প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন। কিন্তু এরপরই বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, হাত শিবির ‘আরশোলা’দের সঙ্গে ঠিক কেমন সম্পর্ক রাখতে চায়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করছে ঠিকই, কিন্তু জোটে থাকা প্রত্যেক দলেরই নিজ নিজ রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। যেমন উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি কখনই কংগ্রেসকে রাজনৈতিক জমি ছেড়ে দেবে না। তেমনই অন্য রাজ্যগুলিতেও বিরোধী দলগুলির মধ্যে টানাপোড়েন নতুন নয়। তাই মুখে মুখে মোদি-বিরোধী স্লোগান দিলেও কার্যক্ষেত্রে বিরোধীরা ছন্নাছাড়া। ২০২৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে অনেকে মনে করেছিল মোদির বিরুদ্ধে মুখ হয়ে উঠতে পারেন রাহুল। কিন্তু কংগ্রেস সাংসদ নিজেকে সেই কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এখন দেশে ‘মোদি বনাম জেন জি’ সমীকরণ তৈরি হয়েছে। লড়াইয়ে সামনের দিকে চলে এসেছে ‘ককরোচ’রা। সেই কথা ভেবেই হাত শিবির ‘আরশোলা’র থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
