কী নির্মল, নিষ্পাপ হাসি! বয়স ৬। নাম লামিয়া আক্তার। এ প্রাণবন্ত শিশুটির হাসি কেড়ে নিয়েছে এক বেপরোয়া গতির সিএনজি টেক্সি। গতকাল মানিকছড়িতে সিএনজি টেক্সির ধাক্কায় সে মারা যায়। এদিকে লোহাগাড়া এবং পটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে আরো ২ জন।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে মানিকছড়ি উপজেলার লক্ষীছড়ি সড়কের মগাইছড়ি ব্রিজের পূর্ব পাশে সিএনজি টেক্সির ধাক্কায় মারা যায় লামিয়া। সে মগাইছড়ি এলাকার মো. মাসুদ ও রুনা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যা। লামিয়া মগাইছড়ি মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে লামিয়া সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় লক্ষীছড়ির দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি টেক্সি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মানিকছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদ খান চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পটিয়া : পটিয়া প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের শান্তিরহাটে বাসের ধাক্কায় আবদুল হাকিম জিসান (২৫) নামে এক ব্যাটারিরিকশার চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. হাসান (৩৮) নামে এক রিকশাযাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার পশ্চিম পাশে হোয়াইট প্লাস ক্লাবের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিসান সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া এলাকার মৃত মনির আহমেদের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। আহত হাসান চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানগামী পূরবী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস শান্তিরহাট এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারিচালিত রিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। গুরুতর আহত চালক জিসান ও যাত্রী হাসানকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বাসটি ও চালককে আটক করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আটক চালক মো. মহিউদ্দিন (৪৩) সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. হারুনুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও চালককে আটক করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনে চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গতকাল রোববার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লোহাগাড়া : লোহাগাড়া প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম (৪০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ (১২) নামে এক শিশু আহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের হাতিয়ারকুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় বড়ঘোনা এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। আহত আরিফ একই এলাকার মোহাম্মদ জাফরের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রামমুখী একটি বাস একইমুখী মোটরসাইকেলটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ছিটকে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত আরিফকে উদ্ধার করে উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার এসআই পার্থ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে বাসটি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
