চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায় ওজনে তেল কম দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য জিন্নাহ পাটওয়ারীর মালিকানাধীন ‘মেসার্স শারমিন ফিলিং স্টেশন’কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয় কুমিল্লার ফিল্ড অফিসার (সিএম) এস. এম. শাকিল ইউসুফ।
তিনি জানান, শারমিন ফিলিং স্টেশনে পরিচালিত অভিযানে একটি ডিজেল এবং একটি অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিটে তেল পরিমাপে ব্যাপক কারচুপি ধরা পড়ে। সেখানে প্রতি ১০ লিটার তেলে যথাক্রমে ৩৪০ মিলিলিটার ও ৪১০ মিলিলিটার কম প্রদান করা হচ্ছিল। এই অপরাধে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইনে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে পাম্পটিতে এই অনিয়ম চলছিল কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
এর আগেও গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শারমিন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়েছিল বিএসটিআই। সে সময় প্রতি ৫ লিটার ডিজেলে ২৪০ মিলি, ৫ লিটার অকটেনে ২২০ মিলি এবং ৪ লিটার পেট্রলে ২০০ মিলি তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্পটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছিলেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা এই পাম্পের মাধ্যমে বেশি প্রতারিত হয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বারবার তেল কম দেওয়ার বিষয়ে মেসার্স শারমিন ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী জিন্নাহ পাটোয়ারী দাবি করেন, তেল টানার পাইপে লিকেজ থাকার কারণে মাপে কম আসছিল। পাইপের এই ত্রুটি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে না আসায় জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে। এ ঘটনায় গাফিলতির কারণে পাম্পের ম্যানেজারকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিএসটিআই টিম চলে যাওয়ার পরপরই ত্রুটিপূর্ণ পাইপটি মেরামত করা হয়েছে এবং এখন সঠিক মাপে তেল দেওয়া হচ্ছে।
অভিযান প্রসঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নাহিদ ইকবাল বলেন, ওজনে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শারমিন ফিলিং স্টেশনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিএসটিআইয়ের স্ট্যান্ডার্ড মার্ক লাইসেন্স ছাড়াই কেক ও বিস্কুট উৎপাদন ও বাজারজাত করার অপরাধে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি বেকারিকে ৫০ হাজার টাকাসহ অভিযানে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানকালে মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয় কুমিল্লার পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. শামস তাবরেজ ও ফিল্ড অফিসার (সিএম) এস. এম. শাকিল ইউসুফ।
