Published on
:
2 min read
নিতাই রক্ষিত
সাদা রঙের প্রাসাদোপম দোতলা বাড়ি। গ্যারেজে ধূসর রঙের নতুন বিএমডব্লিউ। যে গাড়ির জন্যই নাকি মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন যমুনাবালির এই বাড়ির বছর পঁচিশের বধূ স্নেহা চক্রবর্তীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন স্বামী রণদীপ জানা এবং তাঁর বাবা রতন জানা। পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তেও বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কখনও কখনও স্ত্রীকে মারধরের কথা জেরায় স্বীকারও করেছেন স্বামী। এ বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল এই সময় অনলাইন। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি।
গত ৮ অক্টোবর শ্বশুরবাড়ি থেকে স্নেহার দেহ উদ্ধার হয়। স্নেহা মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এইচআর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাপের বাড়ির অভিযোগ, বিএমডব্লিউ কেনার জন্য ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রীকে চাপ দিতেন স্বামী। গাড়ির দাম আরও বেশি। তবে টাকার দাবি ১০ লক্ষ বলেই প্রাথমিক ভাবে পুলিশের একটি সূত্রের দাবি। ঘটনাচক্রে, স্নেহার দেহ উদ্ধার হওয়ার দু’দিন আগেই নতুন বিএমডব্লিউ কেনেন রণদীপ। জেলা পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিকও জানিয়েছেন, ‘ডব্লিউবি৩৩কিউ১১১৩’ নম্বরের গাড়িটি রণদীপের নামে নথিভুক্ত রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর সেটির রেজিস্ট্রেশন করানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রণদীপের গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
স্নেহার মৃত্যুর পরে তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা যে অভিযোগ করেছেন, প্রথমে সেই অভিযোগ নস্যাৎই করে রণদীপের পরিবার। দাবি করে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্নেহার জন্মদিন ছিল। জন্মদিনের উপহার হিসেবেই গাড়িটি কেনা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, রণদীপের পরিবারের এই দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। গত ৯ অক্টোবর পেশায় বালি ব্যবসায়ী রণদীপ এবং তাঁর বাবা গ্রেপ্তার হওয়ার পরে ১০ তারিখ তাঁদের মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। রণদীপকে আদালত ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। রতনকে রাখা হয়েছে জেল হেফাজতে।
তদন্তকারীদের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় দাম্পত্যকলহের কথা স্বীকার করেছেন রণদীপ। ঝগড়ার সময়ে যে স্ত্রীকে কয়েক বার মারধরও করেছেন, সে কথাও স্বীকার করেছেন। কিন্তু সেই ঝগড়ার কারণ বিএমডব্লিউ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি রণদীপ। স্নেহার দেহটি ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু তার রিপোর্ট এখনও হাতে এসে পৌঁছয়নি বলেই দাবি করেছে তদন্তকারীদের সূত্র।
স্নেহার মৃত্যুর ঘটনায় স্তম্ভিত পাড়াপ্রতিবেশীরাও। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না। কেউ বলছেন, ‘খবরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তা-ই দেখছি। এর বেশি কিছু জানি না।’ রণদীপদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকে জিতেন সিংয়ের বাড়ি। জিতেন বলেন, ‘ওঁদের সঙ্গে খুব একটা কথা হয় না। যে দিন দেহ উদ্ধার হলো, সে দিনই গাড়িটা দেখেছিলাম গ্যারেজে। কিন্তু সেটা কখন আনা হয়েছে, আমরা জানি না। দেখতে পাইনি।’
