খুলনা নগরীতে এক দিনে দুইজন খুন হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে সদর থানায় এবং বিকালে লবণচরা থানায় এ দুটি খুনের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব বানিয়াখামার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় একজন গুলি চালালে তুষার (২৭) নামে এক যুবকের পিঠে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
তুষার নগরীর জিন্নাপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর থানার ওসি বলেন, “তুষার কারাগারে আটক খুলনার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।”
তিনি বলেন, হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তুষারের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
অপরদিকে লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিন্নাহপাড়ার বউবাজার এলাকার সাত নম্বর গলিতে খুশি (২৪) নামের এক গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি ওই এলাকার সুমন সরদারের স্ত্রী। সুমন ‘ব্লেড বাবু’ নামে পরিচিত। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেলে এসে খুশির মাথা লক্ষ্য পরে দুটি গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে খুলনা নগর ও জেলায় ৬৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে নগরীতে।
একই সঙ্গে হুমকি-ধামকি ও চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিয়ে নগরের থানাগুলোয় অভিযোগের সংখ্যা ঠেকেছে হাজারে। এর আগে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেড় বছরে ৯১টি হত্যাকাণ্ড ঘটে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, “সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর কারণে খুলনায় সবার মধ্যে এক ধরনের ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। কথার আগে গুলি চলছে। এতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।”
পুলিশ বলছে, খুলনা শহর ও আশপাশে অসংখ্য সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’র নেতৃত্বাধীন গ্রুপ, পলাশ গ্রুপ, হুমা বাহিনী, আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ, টেংকি শাওন গ্রুপ, আরমান গ্রুপ, শাকিল গ্রুপ, নাসিম গ্রুপ।
রূপসা, বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলাকে ‘ডেঞ্জার জোন’ উল্লেখ করে খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, গত নয় মাসে রূপসায় ১১টি, তেরখাদায় দুটি, দিঘলিয়ায় চারটি ও বটিয়াঘাটায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
