যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের পর ভোরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল আলোকোজ্জ্বল মেঘ। জেলিফিশের মতো আকৃতির এই মেঘ কয়েক মাইলজুড়ে বিস্তৃত হয়। রকেটের জ্বালানি থেকে বের হওয়া ধোঁয়া আকাশে প্রসারিত হয়ে বরফের কণায় পরিণত হয়। সূর্যের আলো সেই কণায় প্রতিফলিত হওয়ায় তৈরি হয় এই দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। ফ্লোরিডা থেকে শুরু করে নিউইয়র্ক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় তা দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে ফ্যালকন ৯ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য মালামাল বহন করছিল।
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে সূর্যোদয়ের ৪৮ মিনিট আগে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ভোর ও সন্ধ্যায় রকেট উৎক্ষেপণের সময় এ ধরনের দৃশ্য দেখা যেতে পারে। এ সময় সূর্যের আলো আকাশে ছড়িয়ে থাকা বরফের কণায় প্রতিফলিত হয়ে মেঘকে উজ্জ্বল করে তোলে।
রকেটটি আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যায়। ফলে জর্জিয়া থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর বাসিন্দারা এই দৃশ্য দেখার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলিফিশ মেঘের ছবি প্রকাশ করেছে। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মে ছবিগুলো প্রকাশের পর শত শত ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের তোলা ছবিও সেখানে শেয়ার করা হয়।
মঙ্গলবারের এই দৃশ্য যারা দেখতে পারেননি, তাদের জন্য আবারও সুযোগ আসছে আগামী সোমবার, ১৯ অক্টোবর। ওই দিন একই উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্পেসএক্সের আরেকটি ফ্যালকন ৯ রকেট উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে।
উপগ্রহ স্থাপনের এই অভিযানের জন্য এক ঘণ্টার উৎক্ষেপণ সময়সীমা শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। ওই দিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৭টা ১ মিনিটে। ফলে সূর্যোদয়ের আধা ঘণ্টার কিছু বেশি সময় আগে রকেট উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় রয়েছে।
এএম
