পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে লকলকে ফলন্ত ধানক্ষেতে শক্তিশালী আগাছানাশক (ঘাস বিনাশী বিষ) প্রয়োগ করে এক কৃষকের ৫৪ শতক জমির আমন ধানক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী।
অভিযুক্তরা হলেন— তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ দর্জিপাড়া এলাকার আব্দুল হক এবং তাঁর দুই ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৩৮) ও হরমুজ আলী (৪০)। ভুক্তভোগীরা একই ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামের বাসিন্দা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠজুড়ে থাকা সবুজ ধানগাছগুলো বিষক্রিয়ায় পুড়ে লালচে ও তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর অভিযুক্তরা গোপনে তাঁদের ৫৪ শতক ধানক্ষেতে ‘রাউন্ডআপ’ নামক শক্তিশালী আগাছানাশক স্প্রে করেন। পরদিন শনিবার সকালে জমিতে গিয়ে তাঁরা সব ফসল মরে শুকিয়ে যেতে দেখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দর্জিপাড়া মৌজার অন্য একটি জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে গত ৮-৯ মাস ধরে বিরোধ চলছিল। ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তা অমান্য করে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে আসছিল অভিযুক্তরা।
নষ্ট হওয়া ফসলের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ কৃষক আবুল হোসেন। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট ও ধার-দেনা করে এই জমিতে ধান বুনেছিলাম। যে জমি নিয়ে বিরোধ, তার সাথে এই ধানক্ষেতের কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও তারা প্রতিহিংসাবশত আমার খাবারের ধানগুলো বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দিল। আমি এর কঠিন বিচার চাই।”
স্থানীয় প্রতিবেশী আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি অভিযুক্তদের স্প্রে মেশিন নিয়ে ওই জমির দিকে যেতে দেখেছেন। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে অভিযুক্ত হাসিবুল আরও ফসল ও চা-বাগান নষ্ট করার দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন।
অভিযুক্ত হাসিবুল ও তাঁর ভাই পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাঁদের মা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা নিজেরা ফসল নষ্ট করে তাঁদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুন অর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনা। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, ফসল নষ্টের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
