আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। শেষদিনে আজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট, আফগানিস্তানের ৩৪৭ রান।
গতকাল চতুর্থ দিনটা রাঙিয়েছেন লিটন দাস। সবশেষ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এবার এক টেস্টেই তিনি ফিফটি ও সেঞ্চুরি করলেন। এদিন ব্যক্তিগত ৫ রানে ইনিংস শুরু করেছিলেন লিটন। দৃষ্টিনন্দন সব শট খেলে শেষ পর্যন্ত তিনি তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তম শতক। ১১৫ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন তিনি। অবশ্য সেঞ্চুরির পরের ওভারেই আউট হন লিটন। সেলিমের বাউন্সারে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। এরপরই ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে এগিয়ে থাকার সুবাদে সব মিলিয়ে টাইগারদের লিড দাঁড়ায় তখন ৪৭৮ রান। অসম্ভব সে লক্ষ্য তাড়ায় ৫০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে চতুর্থ দিন শেষ করে আফগানিস্তান।
বোলিংয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন এবাদত। ১.১ ওভারে তার শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মালিক। লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ওপেনার। দলীয় ৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর হাসানের আঘাত। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাংলাদেশি পেসার। এবার তার প্রথম শিকার শহিদুল্লাহ। দলীয় ২৮ রানে লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ১৯ রানে আউট হন শহিদুল্লাহ। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াইয়ে বেশ সফলই ছিলেন আতাল ও রহমত শাহ।
কিন্তু এরপর সেদিকুল্লাহ ও রহমত শাহর জুটিতে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। তবে শেষ বিকালে রহমতকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবাদত।
১২৪ বলের ইনিংসে ৫১ রান করেছেন তিনি। এতে আতালের সঙ্গে ২১৪ বলে ৮২ রানের জুটি ভেঙেছে। রহমতের ক্যাচ ধরে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছেন লিটন। ২০০৪ সালে হারারেতে খালেদ মাসুদের ৭ ডিসমিসাল ছিল এতদিনের রেকর্ড। এই টেস্টে লিটনের ডিসমিসাল এখন পর্যন্ত আটটি। ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। শেষ সময়ে আর কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি আতাল (৩৫) ও শহিদি (১৯) জুটি।
এর আগে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। লিটনের সঙ্গে ব্যক্তিগত শূন্য রানে ব্যাটিংয়ে নামেন মিরাজ। সপ্তম উইকেটে এ জুটি স্কোরকার্ডে জমা করেন ২০১ বলে ১৪৯ রান। লিটন সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছেন। ১১৭ বলে ১৪ বাউন্ডারিতে ১০২ রান করেছেন। পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারেও ছুঁয়েছেন অনন্য এক মাইলফলক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ৫ম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রানের এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছেন লিটন। বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সবার ওপরে মুশফিকুর রহিম। এরপরই আছেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আবুধাবিতে এদিন শতকের পরই লিটন আউট হন। তবে ইনিংস ঘোষণার সময় ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।
প্রসঙ্গত আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৮৩ তানজিদের। এ ছাড়া সাদমান ৬৭ ও লিটন ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন হাসান। সব মিলিয়ে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটনের শতক আর শান্ত (৮২) ও মুশফিকের (৮১) ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনশেষে টেস্টের যা গতিবিধি তাতে বাংলাদেশই জিততে চলেছে। কেননা আফগানদের হাতে আছে ৭ উইকেট; শেষ দিনে এখনও ৩৪৭ রান করতে হবে। এটা অসম্ভবই বটে!
