উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লিভারপুল। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে রোমাঞ্চে ঠাসা এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে অলরেডরা। প্রথম আধঘণ্টার মধ্যে দুই গোল হজম করে চরম চাপে পড়লেও মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোড়া গোল এবং ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড রিও এনগুমোহার চমৎকার নৈপুণ্যে নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক দল।
অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। খেলার মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের একটি দুর্বল হেডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের জালে বল পাঠান ভিয়ারিয়ালের জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর ২৯তম মিনিটে সার্জি কারদোনা লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় সফরকারী স্প্যানিশ ক্লাবটি, যার ফলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক শিবির।
তবে দুই গোল হজম করে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে লিভারপুল। খেলার ৩৬তম মিনিটে কস্তাস সিমিকাসের কর্নার কিক থেকে দর্শনীয় এক হেডে ব্যবধান ২-১ করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা ইনজুরি সময়ে তরুণ রিও এনগুমোহারের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার রোনাল্ড আরাউহো। বিরতিতে যাওয়ার আগেই সমতায় ফিরতে পেরে ড্রেসিংরুমে মানসিক স্বস্তি পায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় লিভারপুল। ৬৫তম মিনিটে এনগুমোহার অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়ে বাড়ানো পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন মিনিট পর (৬৮তম মিনিটে) ফ্লোরিয়ান ভির্টজের চমৎকার এক গোলে স্কোরলাইন ৪-২ করে লিভারপুল; চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে এটিই ছিল ভির্টজের প্রথম গোল।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ৮৭তম মিনিটে আয়োসে পেরেসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-৩ এ নামিয়ে আনেন ভিয়ারিয়ালের তানি ওলুওয়াসেই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও লিভারপুল রক্ষণভাগকে আর পরাস্ত করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী এনগুমোহা; দুটি গোলে সরাসরি সহায়তা করার পাশাপাশি ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগে প্রতিনিয়ত ভীতি ছড়িয়ে দলের এই স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের মূল কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি।
