জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে (জিএম কাদের) গ্রেপ্তারের দাবিতে তার উত্তরার বাসার সামনে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ সময় বাসায় হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় জিএম কাদের বাসায় ছিলেন, তবে এতে কেউ আহত হননি বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, হঠাৎ একটি ব্যানার নিয়ে এসে একদল দুষ্কৃতকারী পার্টির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু, প্রবেশ করতে না পারে দরজা-জানালায় ইট-পাথর নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। পরে স্লোগান দিয়ে তারা চলে যায়।
এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান মাহমুদ আলম।
আরও পড়ুন
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘স্বৈরাচার বিরোধী সাধারণ জনগণ’ এর ব্যানারে একদল লোক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিএম কাদেরের উত্তরা বাসভবনের সামনে উপস্থিত হয়।
এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে অভিযোগে তুলে জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে তারা। পরে জিএম কাদেরর বাসভবনের দরজা-জানালা লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকরা।
বিক্ষোভকারীরা জিএম কাদেরের উত্তরার বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার বিচার দাবি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খালিদ মনসুর।
তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে জিএম কাদেরের বাসার সামনে একটি মিছিল হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিক্ষোভকারীদের ব্যানারে জি এম কাদেরের প্রতিকৃতির পাশাপাশি লেখা ছিল, জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ; জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ বজায় রাখছে। এ ছাড়া বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি তৎকালীন সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তারা জি এম কাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের উত্তরার বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তারা জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা কিংবা তার বাসভবনে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
জয়ন্ত/অমিয়/
