দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) এক রোগীর তাণ্ডবে কর্তব্যরত দুই নার্স গুরুতর জখম। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বাতাসিয়ার ২১ বছর বয়সি যুবক সজল রাই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত দুটো নাগাদ তিনি হঠাৎ চরম হিংসাত্মক হয়ে ওঠেন। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসাকর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই যুবক সিসিইউ-তে কর্মরত নার্স প্রভা ছেত্রী ও লক্ষ্মী রাইয়ের ওপর আচমকা হামলা চালান। চিৎকার শুনে অন্য সহকর্মীরা ছুটে এসে কোনওক্রমে আক্রমণকারীকে নিরস্ত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় দুই নার্সকে উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক হামলায় গুরুতর আহত দুই নার্সকে বর্তমানে ওই সিসিইউতেই রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর থেকেই জখম নার্সদের পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের সরকারি হাসপাতালগুলিতে রাতের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। সিসিইউ-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিভাগে রাতে প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী থাকলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের পক্ষ থেকে দার্জিলিং সদর থানায় ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে উপযুক্ত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।
খবর পেয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য স্থানীয় বিধায়ক নোমান রাই জেলা হাসপাতালে পৌঁছোন এবং জখম নার্সদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে তিনি দার্জিলিং সদর থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে কর্মস্থলে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তায় কোনও ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন তিনি। বিধায়ক জানান, ‘‘যে রোগী নার্সদের উপর চড়াও হন, তিনি নিজেও অসুস্থ এবং মানসিক ভাবে খানিকটা বিপর্যস্ত। তবে হাসপাতালে নিরাপত্তা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। দুই নার্সও ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।’’
অন্যদিকে দার্জিলিং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তুলসী প্রামাণিক জানান, ‘‘যিনি মেরেছেন, তিনিও রোগী। তবে তিনি মাদকাসক্ত। মাদকাসক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যেমনটা উইথড্রাল সিনড্রোমে হয়, তেমনটাই হয়েছে। দু’জনের উপর চড়াও হয়েছিলেন। তবে এই ধরনের রোগীদের কী ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তা নিয়ে আরও প্রশিক্ষণ দরকার।’’ পাহাড়ের সরকারি হাসপাতালে রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর যে দাবিতে সরব হয়েছিল আহতদের পরিবার, তা নিয়ে তুলসীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
