Published on
:
2 min read
দাম কম অথচ আসল হীরের মতোই ঝলমলে। বর্তমান সময়ে ভারতের গয়নার বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড’ বা গবেষণাগারে তৈরি হীরে। তবে কেনাকাটার সময় ক্যারেট, ক্ল্যারিটি, কাট, বা ভিভিএস-এর মতো খটমট টেকনিক্যাল শব্দগুলো বহু ক্রেতাকেই বিভ্রান্ত করে তোলে। দু’টি একই আকারের হওয়া সত্ত্বেও দামে কেন আকাশ-পাতাল তফাত হয়? এই বিশেষ ধরনের হীরে কেনার আগে কী কী সতর্কতা মাথায় রাখা জরুরি?
শুধু ক্যারেট বা আকার দেখে কিনবেন না
হীরের ওজন মাপা হয় ক্যারেট দিয়ে। তবে হীরে বড় হলেই যে তা গুণমানে সেরা, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিশেষজ্ঞের মতে, সবচেয়ে বড় আকারের হীরে না খুঁজে হীরের গুণমানের উপর জোর দেওয়া উচিত। ক্ল্যারিটির ক্ষেত্রে VVS (Very Very Slightly Included) থেকে VS (Very Slightly Included) রেঞ্জের মধ্যে হীরে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি হীরের ফ্লোরোসেন্স (Fluorescence) এবং তাতে কালচে, সবুজ বা দুধেল কোনও আভা (Tinge) রয়েছে কি না তাও পরখ করে নিন।
গ্রেডিং রিপোর্ট বা ডায়মন্ড সার্টিফিকেট
ডায়মন্ড-টি কতটা ভালো তা গ্রেডিং রিপোর্ট দেখলেই বোঝা যায়। কেনার আগে সার্টিফিকেটে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট লেখা রয়েছে কি না দেখে নিন।
ক্যারেট, রং, ক্ল্যারিটি, কাট ও ফ্লোরোসেন্স।
পাথরটি যে গবেষণাগারে তৈরি এবং পরবর্তীতে এতে কোনও কৃত্রিম ট্রিটমেন্ট বা রং পরিবর্তন করা হয়েছে কি না, তার স্পষ্ট তথ্য।
কাগজ-কলমে দু’টি হীরের বিবরণ এক হলেও কাটিং ও পলিশিংয়ের উপর ভিত্তি করে সরাসরি চোখের দেখায় তাদের দ্যুতি ভিন্ন হতে পারে।
ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড কেন আসল হীরের থেকে সস্তা?
প্রাকৃতিক হীরে খনি থেকে উত্তোলন করতে বিপুল খরচ হয় এবং এর জোগান অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে, ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড গবেষণাগারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয়, যা চাহিদামতো উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড কিন্তু কোনও ভাবেই নকল বা ইমিটেশন নয়। এর রাসায়নিক ও ভৌত গঠন প্রাকৃতিক হীরের মতোই ১০০% এক। কেবল জোগান ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার পার্থক্যের জন্যই এর দাম কম।
একই ক্যারেটের দু’টি হীরের দামে কেন তফাত হয়?
দু’ধরনের হীরের ওজন (Carat) এক হওয়া মানেই তাদের দাম এক হবে না। রং, স্বচ্ছতা বা ক্ল্যারিটি এবং কাটিংয়ের উপর ভিত্তি করে দামে অনেক ফারাক দেখা যায়। হীরে কত সুন্দর ভাবে আলো প্রতিফলিত করবে, তা নির্ভর করে নিখুঁত ‘কাট ও পালিশ’-এর উপর। তাই দু’ধরনের হীরে সবসময় পাশাপাশি রেখে তাদের উজ্জ্বলতা তুলনা করা উচিত।
রিসেল ভ্যালু নিয়ে ভুল ধারণা
ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড-কে কিন্তু অর্থনৈতিক 'বিনিয়োগ' বা ইনভেস্টমেন্ট ভেবে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। যে হেতু বিশ্ব জুড়ে ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের উৎপাদন ও প্রযুক্তি দ্রুত বাড়ছে, তাই ভবিষ্যতে এর দাম ওঠানামা করতে পারে। কেনার আগে অবশ্যই জুয়েলারির এক্সচেঞ্জ, বাইব্যাক এবং আপগ্রেড পলিসি ভালো করে জেনে নিন। বিল এবং গ্রেডিং রিপোর্টটি ভবিষ্যতে এক্সচেঞ্জের জন্য যত্ন করে তুলে রাখুন।