প্রথমার্ধেই জোড়া হলুদ কার্ড, তাতে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হামজা চৌধুরীকে! এরপর দুই গোলের ঘাটতি মিটিয়ে ম্যাচে ফিরেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি তার দল শেফিল্ড ইউনাইটেড। পোর্টসমাউথের মাঠে ৩-২ গোলের এই হারের পর বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে ছাড়াই পরবর্তী ম্যাচ খেলতে হবে শেফিল্ডকে।
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে রাতটা একেবারেই ভালো কাটেনি হামজার। ফ্রাটন পার্কে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৩ মিনিটে প্রথমবার হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশের এই ফুটবলার। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করে সতর্কবার্তা পান তিনি। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও একই খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন হামজা। ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। লাল কার্ডের শাস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এক ম্যাচে দুই হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে যাচ্ছেন হামজা। সে ক্ষেত্রে শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ডের পরবর্তী ম্যাচে দর্শক হয়েই থাকতে হবে তাকে।
তবে হামজার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। ওয়াইল্ডারের দাবি, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর আগে রেফারি নাকি হামজাকে জানিয়েছিলেন, তাকে লাল কার্ড দেখানো হবে না। কিন্তু পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত বদলে তাকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের আচরণকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন শেফিল্ড কোচ।
ওয়াইল্ডার বলেন, ‘হামজা কোথায় যাবে, বুঝতেই পারছি না। এ নিয়ে আমাকে সাবধানে কথাবার্তা বলতে হচ্ছে। এমনকি ম্যাচের শেষ দিকেও আমাদের এক খেলোয়াড়কে বক্সের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তার জার্সি টেনে ধরার ঘটনা সবাই দেখেছেন।’
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের গেমসম্যানশিপের বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। তার মতে, মাঠে শেফিল্ডের খেলোয়াড়দের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে।
ম্যাচের ফলও শেফিল্ডের হতাশা আরও বাড়িয়েছে। ৪১ মিনিটে জ্যাক সোয়ানসনের গোলে এগিয়ে যায় পোর্টসমাউথ। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে আদ্রিয়ান সেগেচিচ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেও হাল ছাড়েনি শেফিল্ড। ৫০ থেকে ৬৭ মিনিটের মধ্যে জ্যাফেত তানগাঙ্গা ও থমাস ক্যাননের গোলে সমতায় ফেরে দলটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় হাতছাড়া হয় তাদের। ৮৯ মিনিটে এবু অ্যাডামসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পোর্টসমাউথ।
১০ জন নিয়ে খেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য দেখিয়েছিল শেফিল্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্টও পাওয়া হলো না তাদের। পরাজয়ের পাশাপাশি হামজাকে হারানোও দলটির জন্য বড় ধাক্কা।
চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫তম স্থানে রয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে দলটি। এ মৌসুমে শেফিল্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন হামজা। তবে গোলের দেখা পাননি বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার!
