দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরদিন বাসিয়া হাটে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে আদিবাসী সাঁওতালদের ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’। তবে কালের বিবর্তনে ও শিক্ষার প্রসারে জীবনসঙ্গী খোঁজার সেই প্রাচীন প্রথা এখন কেবল স্মৃতির খাতায় স্থান পেয়েছে। বর্তমানে মেলাটি রূপ নিয়েছে সর্বস্তরের মানুষের এক অপূর্ব মিলনমেলায়।
গতকাল শুক্রবার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর রকমারি সাজে সাঁওতাল তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী বাজনার তালে তালে আদিবাসী নাচ-গান ও হরেক রকমের গ্রামীণ পণ্যের পসরায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন ছিল বীরগঞ্জ থানা পুলিশ, আনসার ও গ্রামপুলিশ।
বিকালে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি যোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন, জেলা বিএনপি উপদেষ্টা রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, পৌর মেয়র প্রার্থী আলহাজ মো. আমিরুল বাহার, ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, শাহিনুর রহমান চৌধুরী এবং আদিবাসী নেতা শীতল মার্ডী।
বক্তারা জানান, শত বছরের পুরনো এই মেলায় আগে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা জীবনসঙ্গী নির্বাচন করত। তবে আধুনিক শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে এখন আর সে প্রথা নেই। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। ফলে পূর্বপুরুষদের শুরু করা এই ঐতিহাসিক আয়োজনটি এখন মূলত আত্মীয়-স্বজনদের কুশল বিনিময় ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার এক প্রাতিষ্ঠানিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
