ইথিওপিয়ায় জাতিগত সংঘাত, প্রাণ বাঁচাতে কেনিয়ায় পালালেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের জেরে ১৪ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। সংঘর্ষে অন্তত ১২ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। খবর আনাদোলুর।
বিজ্ঞাপন
শনিবার কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার সহিংসতা শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সংঘর্ষে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার অব্যাহত থাকায় অনেক বেসামরিক মানুষের কাছে কেনিয়াই এখন একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
কেনিয়ার রেড ক্রসের আপার ইস্টার্ন অঞ্চলের প্রধান মালিক আদান সাংবাদিকদের বলেন, আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও পানির প্রয়োজন। পাশাপাশি ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ ও আরও শৌচাগার দরকার।
কেনিয়ার রেড ক্রস জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী ময়ালে শহরের ছয়টি অস্থায়ী শিবিরে ১০ হাজার ৯০০-এর বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে রাখা হয়েছে। আরও প্রায় ৪ হাজার মানুষ আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন।
শুক্রবার মারসাবিত কাউন্টির কমিশনার স্ট্যানলি কামান্দে জানিয়েছিলেন, সহিংসতা শুরুর পর ২ হাজারের বেশি ইথিওপীয় কেনিয়ায় প্রবেশ করেছেন। এক দিনের ব্যবধানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
পতাকা নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী ওরোমো ও সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংঘর্ষ চলছে। ওরোমিয়া প্রশাসনের অধীন একটি এলাকায় সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওরোমিয়া ও সোমালি—দুটিই ইথিওপিয়ার ফেডারেল অঞ্চল।
মানবিক সহায়তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তবে ভারী লড়াই অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা ১২ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সংঘাতের উভয় পক্ষ থেকেই ভারী গোলাগুলি ও শেল নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা অনেক সাধারণ মানুষের জন্য কেনিয়াই একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
সংকটে মানবিক সহায়তার ঘাটতি
কেনিয়ার রেড ক্রস ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে তাবু, কম্বল, ঘুমানোর মাদুর ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেছে। শিশু ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টিসহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত খাদ্যসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে চাল ও শিমজাতীয় খাবার রয়েছে। তবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিদ্যমান সহায়তা দিয়ে সবার প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবিক সহায়তা কর্মকর্তারা।
পূর্ব আফ্রিকার দেশ দুটি সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ ময়ালে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে সড়কপথে প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।
সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তবাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। সহিংসতা দীর্ঘায়িত হলে আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তারা শনিবার জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় প্রাণঘাতী সংঘাত থেকে বাঁচতে ১৪ হাজারেরও বেশি ইথিওপীয় প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তারা আরও জানান, বিবদমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সংঘর্ষে অন্তত এক ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
