আজকাল ওয়েবডেস্ক: দশমীতে দুপুর থেকেই একের পর এক প্রতিমা নিরঞ্জনের পথে এগিয়ে যাবে গঙ্গার ঘাটগুলিতে। তার আগে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।
এর পাশাপাশি বিসর্জন পর্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে খোদ ঘাট পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজা কদমতলা ঘাট এবং জাজেস ঘাট পরিদর্শন করতে সকাল থেকেই মাঠে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঘাট পরিদর্শনের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে রাজ্য সরকার। সামান্য সময়ের অসতর্কতা থেকেই বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর কথায়, মাত্র দু’মিনিটের ত্রুটির জন্য চোরবাগানে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই বিসর্জনের ক্ষেত্রে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। বিসর্জন পর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-কেও যুক্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিসর্জনের সময় কলকাতা পুলিশ, রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং কলকাতা পুরসভা সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
প্রয়োজনে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট-সহ অন্যান্য সংস্থার সাহায্যও নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাহিনী, সঠিক পরিকল্পনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
সেই কথা মাথায় রেখেই অভিজ্ঞ আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে বিএসএফের সাতজন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি, এনডিআরএফের একটি দলও থাকবে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এক জন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বারাসত রেঞ্জের ডিআইজিকেও সেখানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও, নিরাপত্তায় যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে সে কারণে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।
DO'S and DON'TS জারি করে কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাছাড়া, শব্দের মাত্রাও রাখতে হবে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে। বিসর্জন চলাকালীন মাইকিংয়ে পুলিশের নির্দেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
নির্দিষ্ট লাইন মেনে বিসর্জন দিতে হবে, অযথা ভিড় করা যাবে না ঘাটে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘাট চত্বরে আসা নিয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনা ঘিরে তোলপাড় রাজ্য। একের পর এক পুজোয় তারপর অনুষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। চোরবাগানের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে রিটার্নিং জাস্টিসের নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
এই ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ভুল ক্ষমার অযোগ্য। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
