সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ইরান। দেশটি বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও অবরোধের মাধ্যমে ইয়েমেন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তেহরান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানের অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে দুই পক্ষের আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। সেইসঙ্গে সংকটের অবসানে ইরান তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতেও প্রস্তুত বলে জানান এই মুখপাত্র।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বাঘেই বলেন, গত ১২ বছরের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ, সামরিক পন্থা এবং অবরোধের মাধ্যমে ইয়েমেন সংকটের সমাধান করা যায় না।
তিনি অভিযোগ করেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের জনগণ নৌ ও আকাশপথের অবরোধের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ এই অঞ্চলের বাইরের শক্তিগুলোর ভূমিকা ইয়েমেনের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বাঘেই বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আঞ্চলিক দেশগুলো এবং মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ইয়েমেনিদের সৌদি আরবে হামলা চালাতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা রয়েছে—সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার এমন অভিযোগের জবাবও দেন বাঘাই।
তিনি বলেন, ইয়েমেনের সামরিক অভিযান পরিচালনায় ইরানের সম্পৃক্ততা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ তেহরান প্রত্যাখ্যান করছে। তার দাবি, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের স্বার্থ ও নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরানের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ইয়েমেন সংকটের সমাধানে দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং আকাশ ও নৌপথের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।
বাঘেই বলেন, ইয়েমেন সংকটের সমাধানে ইরান তার সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রস্তুত। তবে এ অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ানো কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয় বলে মনে করে তেহরান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সংঘাত বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ খুঁজবে।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংলাপ, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান এবং অবরোধ প্রত্যাহার জরুরি। তবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো সমঝোতার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।