যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর (ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
গত মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ফুসফুসের জটিলতা ও বার্ধক্যজনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র ও এক কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজা ও দাফন:
মরহুমের প্রথম জানাজা বুধবার ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ সহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সাবেক-বর্তমান সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিতীয় জানাজা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং তৃতীয় ও শেষ জানাজা বুধবার বাদ আসর ৩টায় শ্যামপুর কদমতলীর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুরাইন কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
রাজনৈতিক জীবন:
আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম সংসদে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অষ্টম সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শোক প্রকাশ:
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, “সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন নিবেদিত ও নির্ভীক নেতা, যিনি বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।”
একই সাথে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন *রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক*। তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, “আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার মাটি ও মানুষের নেতা। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী, দৈনিক দেশ জনতা পত্রিকার সম্পাদক ও সমাজসেবক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিভাবককে হারালো। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
এছাড়াও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন।
মরহুমের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন সকলের কাছে তার বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
