এসএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া মানেই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ বিরতি নয়। ফল প্রকাশের পর দ্রুত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দিয়ে তাদের এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এসএসসিতে সর্বোচ্চ দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। যারা সাধারণ শিক্ষায়
পিছিয়ে পড়ছে, তাদের কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
গতকাল বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি কলেজ অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান না, আবার অনেকের পক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় বহন করাও সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি কলেজগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। কারণ বেসরকারি কলেজগুলো অতিমাত্রায় টিউশন ফি নেয়।
মূল্যায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে : নতুন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এতদিন নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তারা পরিশ্রম করেছেন। এখন তাদের মাধ্যমে অন্যদের যোগ্যতা বিকশিত হবে। একজন শিক্ষকের সাফল্যের সঙ্গে এমন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও যুক্ত, যে হয়তো নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে এখনও আত্মবিশ্বাসী নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষকের হাতে মূল্যায়নের ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতার সঙ্গে ন্যায্যতার দায়ও আছে। একটি নম্বর, মন্তব্য কিংবা সুপারিশ শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই মূল্যায়নের মানদণ্ড স্পষ্ট রাখতে হবে এবং সবাইকে একই মানদণ্ডে বিচার করতে হবে। শিক্ষার্থীকে কোথায় ভুল হয়েছে এবং কীভাবে উন্নতি করা সম্ভব তা বুঝতে সহায়তা করাও শিক্ষকের দায়িত্ব।
মন্ত্রীর মতে, যে শিক্ষার্থী সহজে শেখে না তার জন্য শিক্ষকের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। বারবার ভুল করা, প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করা কিংবা পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা শিক্ষার্থীদের শেখার ধারায় ধরে রাখতে পারাই শিক্ষকের দক্ষতার বড় পরিচয়। শ্রেণিকক্ষের সাফল্য বিচার করতে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থী কতটা এগিয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রশ্ন করার সাহস গড়ে তুলতে হবে : শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, ভুল উত্তর দেওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীরা চুপ থাকলে চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই এমন আস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা না বুঝলে তা বলতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে এবং ভিন্নভাবে চিন্তা প্রকাশ করতে পারে।
তিনি বলেন, অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানদের বাড়তি শিক্ষাসহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত শ্রেণিকক্ষই প্রধান ভরসা। প্রস্তুতি ছাড়া ক্লাস নেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই শিক্ষার্থী যার শেখার বিকল্প সুযোগ কম।
প্রশিক্ষণের শিক্ষা কাজে লাগানোর আহ্বান : শিক্ষকদের কর্মস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা বোঝার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থী সব সময় অনাগ্রহী নয়; সে হয়তো কাজ করে, দূর থেকে আসে কিংবা পরিবারের দায়িত্ব পালন করে। সমস্যার কারণ না বুঝে শুধু শাস্তি দিলে সমাধান নাও হতে পারে।
প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু উত্তর মুখস্থ করানো নয়, বরং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, যুক্তি ব্যাখ্যা এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে পাঠদানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীকে সহায়তা এবং প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো বাস্তব অঙ্গীকার নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পরামর্শও দেন শিক্ষামন্ত্রী।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের (মাউশি) ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী উপস্থিত ছিলেন।
