অসুস্থ ছিলেন মা। চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু জন্মদাত্রীর কষ্ট সহ্য করতে পারছিলেন না ছেলে মনু। দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে, মায়ের সুস্থতার প্রার্থনা করেন। মানত করেন, মা সুস্থ হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গে গিয়ে পুজো দেবেন। ট্রেন, বাসে করে নয় হেঁটে বা দৌড়ে। সুস্থ হয়েছেন মা। এখন মহাদেবকে দেওয়া কথা রাখার সময়! এখনও পর্যন্ত দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের ৫টিতে পুজো দিয়েছেন হেঁটে। রোজ ৫০ কিলোমিটার ছুটছেন বিহারের মনু।
বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মনু মেতুরবালা। বয়স ১৯ বছর। তাঁর মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। যমে-মানুষে লড়াই চলতে থাকে। মাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে মহাদেবের কাছে মানত করেন মনু। মানত করেন, মা সুস্থ হয়ে গেলে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের গিয়ে পুজো দেবেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন মনুর মা। তারপরই মহাদেবের কাছে করা মানতের কথা রাখতে পায়ে হেঁটে ১২ জ্যোতির্লিঙ্গে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছেন তিনি।
View this post on Instagram
চলতি বছরের ১৫ মার্চ যাত্রা শুরু করেন মনু। প্রতিদিন ৫০ কিলোমিটার ছুটছেন তিনি। ইতিমধ্যেই পাড়ি দিয়েছেন ৮ হাজার কিলোমিটার। ১২টির মধ্যে ৫টি জ্যোতির্লিঙ্গে গিয়ে পুজো দেওয়া হয়ে গিয়েছে তাঁর। সবার প্রথম তিনি গিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের বাবা বৈদ্যনাথ ধামে। এখন মনু রয়েছেন মহারাষ্ট্রে। এই রাজ্যে থাকা ৩টি জ্যোতির্লিঙ্গে যাবেন তিনি। তাঁর এই যাত্রা সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল। ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে। মহাদেব পূজিত হন মন্দিরগুলিতে। সোমনাথ, মল্লিকার্জুন, মহাকালেশ্বর, ওঙ্কারেশ্বর, কেদারনাথ, ভীমশংকর, কাশী বিশ্বনাথ ত্র্যম্বকেশ্বর, বৈদ্যনাথ (বাবা বৈদ্যনাথ), নাগেশ্বর, রামেশ্বরম (রামনাথস্বামী) মন্দির দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নামে পরিচিত।
